
এনএনবি, ঢাকা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে
অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রেক্ষাপটে দেশে সম্ভাব্য তেলের সংকট নিয়ে সাধারণ
মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অতিরিক্ত ভিড়
দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি তেল সরবরাহে সীমা নির্ধারণ করেছে
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় সংস্থাটি জানিয়েছে,
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার
এবং ব্যক্তিগত গাড়ি দিনে সর্বোচ্চ ১০ লিটার জ্বালানি নিতে পারবে।
যানবাহনভেদে দৈনিক জ্বালানি সরবরাহের সীমা
বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য জ্বালানি
সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—
মোটরসাইকেল: সর্বোচ্চ ২ লিটার (পেট্রল বা অকটেন)
ব্যক্তিগত গাড়ি: সর্বোচ্চ ১০ লিটার
এসইউভি বা জিপ ও মাইক্রোবাস: ২০–২৫ লিটার
পিকআপ ও স্থানীয় বাস: ৭০–৮০ লিটার ডিজেল
দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান: ২০০–২২০ লিটার
এ ছাড়া তেল নেওয়ার সময় গ্রাহকদের আগের ক্রয়ের রসিদ দেখাতে হবে। রসিদ ছাড়া কোনো
ফিলিং স্টেশন জ্বালানি বিক্রি করতে পারবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব
সরকারি সূত্র জানায়, দেশের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং ইরান, ইসরায়েল ও
যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
এর জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়লে
অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনতে শুরু করেন। এমনকি কিছু অসাধু ডিলার ও
ভোক্তার বিরুদ্ধে জ্বালানি মজুতের চেষ্টার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সরকারের আশ্বাস
তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, দেশে তেলের মজুত এখনো শেষ হয়ে
যায়নি। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নতুন চালান দেশে আসছে এবং খুব শিগগিরই একটি
শক্তিশালী ‘বাফার স্টক’ তৈরি করা হবে। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার
জন্য জনগণকে অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে তেল সরবরাহ সীমিত করার ঘোষণার পর রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ছুটির
দিনেও সকাল থেকে ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। কিছু জায়গায় মোটরসাইকেলচালকদের মধ্যে
ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
কর্তৃপক্ষের আশা, এই সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে জ্বালানি অপচয় ও অবৈধ মজুত কমানো
যাবে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
COMMENTS