![]() |
| হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ধান্ধায় সাইফুল ইসলাম ... |
জুলীয়াস চৌধুরী
লাইসেন্সবিহীন এমএলএম ও নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিম পরিচালনার অভিযোগে আলোচিত গাজীপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বিটেক’ এবার “বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি” নামে একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির আড়ালে আইপিও ছাড়া দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা শত শত মানি রিসিপ্ট, সেমিনারের ভিডিও, প্রচারপত্র, হলরুম বরাদ্দের নথি এবং বিভিন্ন জেলার সভা-সমাবেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি “পার্টনারশিপ শেয়ার”, “সুপারভাইজার শেয়ার”, “ডিজিটাল ব্যবসা” ও “ভবিষ্যৎ আয়” এর প্রলোভন দেখিয়ে প্রকাশ্যে অর্থ সংগ্রহ করছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, “বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি” নামে একটি পাবলিক কোম্পানির নিবন্ধন তথ্য যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের দপ্তরের অনলাইন সার্চে পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন নম্বর সি-২০৮৩২৯। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অনুমোদিত কোনো আইপিও, প্রসপেক্টাস বা সাধারণ জনগণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, কোনো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যদি সাধারণ জনগণের কাছ থেকে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদিত আইপিও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কোনো অবস্থাতেই সভা-সমাবেশ, লিফলেট, প্রচারণা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জনগণের কাছে বিনিয়োগ আহ্বান করা বৈধ নয়। যদিও সীমিত পরিসরে ‘প্রাইভেট প্লেসমেন্ট’-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার ইস্যুর সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সেটি কখনোই উন্মুক্ত জনসাধারণের জন্য নয়।
কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিটেক প্রকাশ্যে দেশজুড়ে সভা-সেমিনার, অনলাইন জুম মিটিং, ফেসবুক প্রচারণা এবং সরাসরি সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক নতুন অংশগ্রহণকারী নিয়ে অনলাইন জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে “ভবিষ্যৎ আয়”, “ডিজিটাল বিজনেস”, “পার্টনারশিপ” ও “শেয়ার” কেনার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।
কিছু পোস্টে দেখা গেছে, সদস্যরা নিজেদের রিসিপ্ট প্রকাশ করে অন্যদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করছেন। বিভিন্ন পোস্টে “ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণের জন্য”, “শেয়ার নিয়ে নিলাম”, “বিটেক পরিবারের অংশ” ইত্যাদি ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, “বিটেক কমিউনিকেশন ওপিসি” নামে পরিচালিত কার্যক্রমের কোনো নিবন্ধন তথ্য যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের দপ্তরের অনলাইন ডাটাবেজে পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন বানানে অনুসন্ধান করেও প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরাসরি নগদ অর্থের বিনিময়ে সদস্যতা, পয়েন্ট বা “শেয়ার” দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে একজন সদস্য তার রেফারেল নম্বরের অধীনে নতুন সদস্য যুক্ত করলে কমিশন বা বোনাস পাচ্ছেন। পরে সেই নতুন সদস্যরাও আবার আরও সদস্য যুক্ত করলে উপরের স্তরে কমিশন যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের ভাষায় এটি একটি ক্লাসিক নিয়োগনির্ভর পিরামিড কাঠামোর বৈশিষ্ট্য।
বাংলাদেশে “মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩” অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম কার্যক্রম পরিচালনা এবং পিরামিড স্কিম পরিচালনা দণ্ডনীয় অপরাধ।
এই প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিও অনুযায়ী, গত ৭ মে ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে, ৮ মে কুড়িগ্রাম পৌর বাজারসংলগ্ন পিটিআই স্কুল ভবনে এবং ৯ মে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসনের হলরুমে বিটেকের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ভিডিওগুলোতে বিটেকের সিইও সাইফুল ইসলাম এবং তার সহযোগীদের বক্তব্য, সদস্য সংগ্রহমূলক প্রচারণা এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম উপস্থাপন করতে দেখা যায়।
নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে পাওয়া একটি আবেদনপত্রে দেখা যায়, রূপালী ব্যাংক পিএলসির নাগেশ্বরী শাখার এক কর্মকর্তা নিজেকে “বিটেক কমিউনিকেশন ওপিসি”-এর “সিনিয়র মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ” পরিচয়ে উপজেলা প্রশাসনের হলরুম ব্যবহারের আবেদন করেন। আবেদনপত্রে তার সরকারি ব্যাংকিং পরিচয় উল্লেখ ছিল না। বিষয়টি সরকারি চাকরির আচরণবিধি ও স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তুলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
লাইসেন্সবিহীন এমএলএম ও নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিম পরিচালনার অভিযোগে আলোচিত গাজীপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বিটেক’ এবার “বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি” নামে একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির আড়ালে আইপিও ছাড়া দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা শত শত মানি রিসিপ্ট, সেমিনারের ভিডিও, প্রচারপত্র, হলরুম বরাদ্দের নথি এবং বিভিন্ন জেলার সভা-সমাবেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি “পার্টনারশিপ শেয়ার”, “সুপারভাইজার শেয়ার”, “ডিজিটাল ব্যবসা” ও “ভবিষ্যৎ আয়” এর প্রলোভন দেখিয়ে প্রকাশ্যে অর্থ সংগ্রহ করছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, “বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি” নামে একটি পাবলিক কোম্পানির নিবন্ধন তথ্য যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের দপ্তরের অনলাইন সার্চে পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন নম্বর সি-২০৮৩২৯। তবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অনুমোদিত কোনো আইপিও, প্রসপেক্টাস বা সাধারণ জনগণের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদনের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, কোনো পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যদি সাধারণ জনগণের কাছ থেকে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদিত আইপিও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কোনো অবস্থাতেই সভা-সমাবেশ, লিফলেট, প্রচারণা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জনগণের কাছে বিনিয়োগ আহ্বান করা বৈধ নয়। যদিও সীমিত পরিসরে ‘প্রাইভেট প্লেসমেন্ট’-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার ইস্যুর সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সেটি কখনোই উন্মুক্ত জনসাধারণের জন্য নয়।
কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিটেক প্রকাশ্যে দেশজুড়ে সভা-সেমিনার, অনলাইন জুম মিটিং, ফেসবুক প্রচারণা এবং সরাসরি সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক নতুন অংশগ্রহণকারী নিয়ে অনলাইন জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে “ভবিষ্যৎ আয়”, “ডিজিটাল বিজনেস”, “পার্টনারশিপ” ও “শেয়ার” কেনার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।
ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে মানি রিসিপ্ট
এই প্রতিবেদকের হাতে আসা শতাধিক স্ক্রিনশট ও ডিজিটাল নথিতে দেখা গেছে, “বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসি” এবং “বিটেক কমিউনিকেশন ওপিসি” নামে অর্থ গ্রহণের রিসিপ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে প্রচার করা হয়েছে। বহু পোস্টে “সুপারভাইজার শেয়ার”, “ওয়ান টোয়েন্টি টু থাউজেন্ড”, “পার্টনারশিপ” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে অর্থ গ্রহণের তথ্য দেখা যায়।কিছু পোস্টে দেখা গেছে, সদস্যরা নিজেদের রিসিপ্ট প্রকাশ করে অন্যদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করছেন। বিভিন্ন পোস্টে “ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণের জন্য”, “শেয়ার নিয়ে নিলাম”, “বিটেক পরিবারের অংশ” ইত্যাদি ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, “বিটেক কমিউনিকেশন ওপিসি” নামে পরিচালিত কার্যক্রমের কোনো নিবন্ধন তথ্য যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের দপ্তরের অনলাইন ডাটাবেজে পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন বানানে অনুসন্ধান করেও প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
‘ডিজিটাল মার্কেটিং’ নাকি সদস্যভিত্তিক অর্থ সংগ্রহ
বিটেকের পক্ষ থেকে অতীতে দাবি করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে যুক্ত দোকান থেকে পণ্য ক্রয় করলে ক্রেতার অ্যাকাউন্টে পয়েন্ট যোগ হবে এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ পয়েন্ট অর্জনের পর সদস্য হওয়া যাবে। কিন্তু অনুসন্ধানে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বাস্তবে সেই পয়েন্ট অর্জনের জন্য বিপুল পরিমাণ পণ্য কিনতে হয় এবং এতে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।অন্যদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরাসরি নগদ অর্থের বিনিময়ে সদস্যতা, পয়েন্ট বা “শেয়ার” দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে একজন সদস্য তার রেফারেল নম্বরের অধীনে নতুন সদস্য যুক্ত করলে কমিশন বা বোনাস পাচ্ছেন। পরে সেই নতুন সদস্যরাও আবার আরও সদস্য যুক্ত করলে উপরের স্তরে কমিশন যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের ভাষায় এটি একটি ক্লাসিক নিয়োগনির্ভর পিরামিড কাঠামোর বৈশিষ্ট্য।
বাংলাদেশে “মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩” অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম কার্যক্রম পরিচালনা এবং পিরামিড স্কিম পরিচালনা দণ্ডনীয় অপরাধ।
দেশজুড়ে সেমিনার ও সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের অভিযোগ
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিটেক দেশব্যাপী জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ধারাবাহিক সেমিনার ও জনসভা করছে। এসব অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে রয়েছে।এই প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিও অনুযায়ী, গত ৭ মে ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির হলরুমে, ৮ মে কুড়িগ্রাম পৌর বাজারসংলগ্ন পিটিআই স্কুল ভবনে এবং ৯ মে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসনের হলরুমে বিটেকের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ভিডিওগুলোতে বিটেকের সিইও সাইফুল ইসলাম এবং তার সহযোগীদের বক্তব্য, সদস্য সংগ্রহমূলক প্রচারণা এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম উপস্থাপন করতে দেখা যায়।
নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে পাওয়া একটি আবেদনপত্রে দেখা যায়, রূপালী ব্যাংক পিএলসির নাগেশ্বরী শাখার এক কর্মকর্তা নিজেকে “বিটেক কমিউনিকেশন ওপিসি”-এর “সিনিয়র মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ” পরিচয়ে উপজেলা প্রশাসনের হলরুম ব্যবহারের আবেদন করেন। আবেদনপত্রে তার সরকারি ব্যাংকিং পরিচয় উল্লেখ ছিল না। বিষয়টি সরকারি চাকরির আচরণবিধি ও স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তুলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ডেসটিনির ছায়া?
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বিটেকের সঙ্গে যুক্ত সাইফুল ইসলামকে স্থানীয়ভাবে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের সাবেক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ডেসটিনি মডেলের মতই সদস্যভিত্তিক কমিশন, মোটিভেশনাল সেমিনার, দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্ন এবং রেফারেলভিত্তিক আয় কাঠামো ব্যবহার করে বিটেক তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তার করছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাইফুল ইসলাম ও বিটেক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

গাজীপুরে প্রধান কার্যালয়
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিটেক কমিউনিকেশন ওপিসি এবং বিটেক ওয়ার্ল্ড পিএলসির প্রধান কার্যলয় গাজীপুর মহানগরের জয়দেবপুর এলাকার শিববাড়ী মোড়ে অবস্থিত আব্দুল করিম ভিলায় পরিচালিত হচ্ছে। ঠিকানা: আব্দুল করিম ভিলা, ৮০/১ পূর্ব চান্দনা, শিববাড়ী মোড়, জয়দেবপুর, গাজীপুর ১৭০০। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পশ্চিম পাশে এপেক্স জুতার দোকানের ওপরের তলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকাশ্যে “শেয়ার”, “পার্টনারশিপ”, “ইনভেস্টমেন্ট” ও “রেফারেল বোনাস” ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকা উদ্বেগজনক।তাদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রমে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের দপ্তর, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত হিসাব জব্দ, আর্থিক লেনদেন তদন্ত, অনুমতিহীন সেমিনার বন্ধ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সাময়িক স্থগিতের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, নিয়োগনির্ভর ও অস্বচ্ছ বিনিয়োগ কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। অতীতে ডেসটিনি-সহ একাধিক ঘটনার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সময়মতো হস্তক্ষেপ না করলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই।

COMMENTS