
এনএনবি, ঢাকা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম
সুশাসন, জননিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার
প্রকাশ করেছেন।
ইশতেহারে তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে ডিজিটাল অভিযোগ বক্স স্থাপন এবং ২৪ ঘণ্টার গোপন
হটলাইন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন, যার মাধ্যমে নাগরিকেরা পরিচয় গোপন রেখে
চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারবেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এই ইশতেহারে
নাহিদ ইসলাম জানান, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি সিটি করপোরেশন ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন
প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকার পূর্বাংশকে স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও
আধুনিক নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন একটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় রূপান্তর করতে
চান। পাশাপাশি তিনি প্রতি মাসে প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট
কর্মকর্তাদের নিয়ে নাগরিক সভা আয়োজনের অঙ্গীকার করেন।
ঢাকা-১১ আসনের আওতাভুক্ত বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, গুলশানের আংশিক এলাকা, রামপুরার
আংশিক অংশ, বনশ্রী, উলন, আফতাবনগর, সাতারকুল, বেরাইদ, ভাটারা ও ডুমনির
দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা তুলে ধরে নাহিদ বলেন, তাঁদের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত
উন্নয়ন নয়; বরং একটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক জীবন নিশ্চিত করা।
ইশতেহারে বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় রাজনৈতিক চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের
অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ফুটপাত, ভবন নির্মাণ, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতে নিয়মিত
চাঁদা আদায়ের ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন
তিনি। এসব খাতকে চাঁদাবাজিমুক্ত করতে প্রতিটি বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে সরাসরি তদারকি কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান
নাহিদ ইসলাম।
নাগরিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার একটি বড়
সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যার পর অনেক এলাকা অনিরাপদ হয়ে পড়ে। এ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানা চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘নাগরিক সুরক্ষা
কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শ্রমিক ও নারী নিরাপত্তার বিষয়েও ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাড্ডা, রামপুরা ও
ভাটারা এলাকায় বিপুলসংখ্যক পোশাকশ্রমিক ও কর্মজীবী নারী বসবাস করলেও তাঁদের
নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। গভীর রাতে কর্মস্থল
থেকে ফেরার পথে হয়রানি, গণপরিবহনে নারীদের ভোগান্তি ও রাস্তায় বখাটেদের উৎপাতের
চিত্র তুলে ধরে এসব সমস্যার সমাধানে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং কর্মজীবী
মায়েদের শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এ ছাড়া প্রগতি সরণির যানজট, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা এবং মেরুল বাড্ডা ও ভাটারা
অঞ্চলের জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সংকট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা
বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন নাহিদ ইসলাম।
COMMENTS