
এনএনবি
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘প্রতিষ্ঠান প্রধান’ ও ‘সহকারী প্রধান’ পদে
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগের
পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সারা দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার
৫৯৯টি শূন্যপদে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ সুপারিশ করতে
প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ম্যাধমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
একই সঙ্গে এসব পদে নিয়োগ সুপারিশের জন্য একটি ‘অনুসরণীয় পদ্ধতি’র নীতিগত ও
চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রশাসনিক অনুমোদন সংক্রান্ত একটি পত্র গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬)
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যানের কাছে
পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। ওই পত্রে এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যানকে এসব
পদে নিয়োগের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বাছাই পরীক্ষা গ্রহণ ও সুপারিশের কার্যক্রম
পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক অনুবিভাগ)
মো. মিজানুর রহমান বাসস’কে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দেশের বেসরকারি
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায়
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ সংস্কার আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব পদে
নিয়োগের অনুসরণীয় পদ্ধতি সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
তিনি জানান, দেশের স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাড়ে ১৩
হাজার প্রশাসনিক পদে এখন থেকে সরকার এনটিআরসিএ’র ম্যাধমে বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন
করবে এবং নিয়োগ সুপারিশ করবে। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং
বডি শুধুমাত্র সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদান করবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতদিন এসব প্রশাসনিক পদে নিয়োগ
কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ন্যস্ত
ছিল। স্থানীয় পর্যায়ের এই নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ পাওয়া যেতো।
এজন্য সরকার নতুন এ উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রশাসনিক অনুমোদন সংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এনটিআরসিএ’র এক পত্রে
বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনটি অধিদপ্তর (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা
অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর) থেকে প্রাপ্ত
তথ্যানুযায়ী, মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্য পদের বিপরীতে এই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু
হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ১০ হাজার ২৭৮টি,
মাদরাাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩ হাজার ১৩১টি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের
অধীনে ১৯০টি শূন্য পদ রয়েছে।
এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. আমিনুল ইসলাম বাসসকে জানান, গত ২২
জানুয়ারি অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক,
সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্টসহ সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি পদে নিয়োগ
সুপারিশের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমতি মিলেছে। খুব শিগগিরই
আমরা রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর কোম্পানি টেলিটকের ম্যাধমে নিয়োগের আবেদন
প্রক্রিয়া শুরু করবো।
পদভিত্তিক শূন্য পদের চিত্র:
তথ্যমতে, এর মধ্যে মোট ৫৯৯ জন অধ্যক্ষ, ৬৮০ জন উপাধ্যক্ষ, ৪ হাজার ৪২৭ জন
প্রধান শিক্ষক, ৩ হাজার ৮৭২ জন সহকারী প্রধান শিক্ষক, ১ হাজার ১৯ জন
সুপারিনটেনডেন্ট এবং ১ হাজার ৪৪ জন সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগ দেওয়া হবে। এর
মধ্যে স্নাতক (পাস) ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ, মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক
বিদ্যালয়, ভোকেশনাল এবং কামিল, ফাজিল, আলিম ও দাখিল মাদরাসা অন্তর্ভুক্ত
রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে জারিকৃত পরিপত্রের আলোকে
এনটিআরসিএ বাছাই পরীক্ষা গ্রহণ করবে। স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধা
তালিকার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।
এনটিআরসিএ’র একজন কর্মকর্তা জানান, মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত চাহিদার ভিত্তিতে
এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রমের প্রশাসনিক অনুমোদন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া গেছে। এর
ফলে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান পদগুলো পূরণ
হবে, যা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন
গতি সঞ্চার করবে।
নিয়োগ পদ্ধতি ও পরীক্ষা হবে যেভাবে:
এর আগে গতকাল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান
পদে এনটিআরসিএ’এ নিয়োগের ক্ষমতা দিয়ে পরিপত্র জারি করে শিক্ষা
মন্ত্রণালয়।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, এসব প্রশাসনিক পদে নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএ একটি পৃথক
পরীক্ষা গ্রহণ করবে। এই পরীক্ষায় মোট ১০০ নম্বর থাকবে। এরমধ্যে লিখিত/বাছাই
পরীক্ষা হবে ৮০ নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা সনদে ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষা হবে ৮
নম্বরের।
পরিপত্র অনুযায়ী, লিখিত ও মৌখিক উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর
পেয়ে পাস করতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে পদভিত্তিক শূন্য পদের
বিপরীতে সর্বোচ্চ তিন গুণ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে। আর
চূড়ান্ত মেধাক্রম প্রস্তুত করা হবে লিখিত, মৌখিক এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বরের
ভিত্তিতে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, মেধাতালিকা ও প্রার্থীর পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রতিটি পদের
বিপরীতে একজনকে (১:১ অনুপাতে) নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ। আর
এনটিআরসিএ-এর সুপারিশপত্র পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং
কমিটি বা গভর্নিং বডিকে অবশ্যই এক মাসের মধ্যে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীকে
নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা
অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদরাাসা শিক্ষা অধিদপ্তর তাদের আওতাধীন
প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদের চাহিদা এনটিআরসিএ-র কাছে পাঠাবে।
এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানান, খুব দ্রুতই এসব পদে নিয়োগ
সুপারিশ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে একটি বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হবে। তার আগে জাতীয়
পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এরপর রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর
কোম্পানি টেলিটকের ম্যাধমে নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
COMMENTS