
এনএনবি
সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা সোমালিল্যান্ডকে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ইসরায়েল। এই সিদ্ধান্তকে কেবল কূটনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগরকেন্দ্রিক চলমান ভূরাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে অবস্থিত স্বঘোষিত রাষ্ট্র সোমালিল্যান্ডের অবস্থান অত্যন্ত কৌশলগত। এডেন উপসাগরের তীরে, ইয়েমেনের কাছাকাছি এলাকায় এর অবস্থান—যেখানে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সক্রিয়। সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিবাদে হুতিদের লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং পাল্টা হিসেবে ইয়েমেনের সানা ও হোদেইদায় ইসরায়েলের বিমান হামলা এই অঞ্চলকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার পেছনে ইসরায়েলের তিনটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে—নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনীতি। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক ডেভিড মাকোভস্কি প্রশ্ন তুলেছেন, এই স্বীকৃতির মাধ্যমে কি সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের সামরিক বা গোয়েন্দা উপস্থিতির সুযোগ তৈরি হলো? বিশেষ করে হুতি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইসরায়েলের গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমালিল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আব্দিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি গোপনে একাধিকবার ইসরায়েল সফর করেছেন। গত অক্টোবরে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে নেতানিয়াহু এই স্বীকৃতির ক্ষেত্রে মোসাদের ভূমিকার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন।
তবে ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সোমালিয়া ও আফ্রিকান ইউনিয়ন। মিসর, ফিলিস্তিনসহ কয়েকটি আরব দেশও এর বিরোধিতা করেছে। এর আগে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সোমালিল্যান্ডে স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে দাবি উঠলেও, সোমালিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এমন কোনো যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই স্বীকৃতি ইসরায়েলের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমালিল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বেরবেরা ইসরায়েলকে লোহিত সাগরে আরও কার্যকর প্রবেশাধিকার দিতে পারে। এতে করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর নজরদারি জোরদার করার সুযোগ পেতে পারে দেশটি।
সব মিলিয়ে, সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়ে ইসরায়েল একটি নজির স্থাপন করলেও এর দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
COMMENTS