
এনএনবি, নাটোর
শিক্ষার্থীদের শারীরিক–মানসিক বিকাশ ও গুণগত শিক্ষার লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার
ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও
গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
শনিবার (১৫ নভেম্বর ২০২৫) সকালে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
উপদেষ্টা বলেন, “প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যেই সম্ভাবনা আছে। তারাই দেশের আগামী
নেতৃত্ব।” এই সম্ভাবনা বিকশিত করতে শৈশব থেকেই মানসম্মত শিক্ষা ও পুষ্টি
নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু বইপড়ায় সীমাবদ্ধ নয়, এ সময়ে
শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, নৈতিকতা ও সামাজিক আচরণ বিকশিত হয়। বিদ্যালয়ে
পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হলে শিক্ষার্থীদের শারীরিক বিকাশও ত্বরান্বিত হবে,
তারা স্কুলমুখী হবে এবং পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হবে।
অধ্যাপক বিধান রঞ্জন উল্লেখ করেন, গুণগত শিক্ষার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা
কার্যক্রম—যেমন খেলাধুলা, সংগীত, বিতর্ক ও বক্তৃতা—শিশুর মানসিক ও চারিত্রিক
বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত স্কুলে গেলে তারা শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং
সামাজিকতায় অভ্যস্ত হয়।
তিনি বলেন, মাতৃভাষায় সাবলীলভাবে পড়া–লেখা শেখানো এবং গণিতের মৌলিক ধারণা
বুঝিয়ে দেওয়া প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’
প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নুর মো.
শামসুজ্জামান। আরো বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু
তাহের মো. মাসুদ রানা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কান্ট্রি ডিরেক্টর ডমিনিকো
স্ক্যালপেলি, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আরিফ হোসেন, গুরুদাসপুরের ইউএনও
ফাহমিদা আফরোজ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রীনা রানী সরকার এবং দুই শিক্ষার্থী
সিদরাতুল মুনহাতা ও আফরিন শরীফ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’
প্রকল্পের আওতায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত দেশের নির্বাচিত ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার
৪১৯টি বিদ্যালয়ের ৩১ লক্ষ ১৩ হাজার শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচদিন ফর্টিফাইড
বিস্কুট, কলা বা মৌসুমী ফল, রুটি, ডিম ও ইউএইচটি দুধসহ পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ
করা হবে।
মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, প্রকল্পের লক্ষ্য হলো সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত
করা এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব করা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানান, গুরুদাসপুর
উপজেলার ৯০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৪৬৬ শিক্ষার্থীকে এই
কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারের এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ,
সচেতন ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
COMMENTS