
এনএনবি
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর
ডলারের মানে বড় ধাক্কা লাগলেও ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ আশা
করেছিলেন, পরের বছর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হবে। তবে সাম্প্রতিক
সপ্তাহগুলোতে সেই প্রত্যাশা ভেঙে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) বিশ্বের প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের
মান গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। ইউরো ও পাউন্ডের বিপরীতে
ডলার কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে পৌঁছায় এবং মাত্র এক সপ্তাহে
প্রায় ৩ শতাংশ মূল্য হারায়।
বর্তমানে পতনের গতি কিছুটা কমলেও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এটি সাময়িক স্বস্তি
মাত্র। আইএনজির ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট রিসার্চের গ্লোবাল হেড ক্রিস টার্নার
বলেন, ‘এ বছর ডলারের মান আরও কমবে—এমন ধারণাই এখন বাজারে প্রাধান্য পাচ্ছে। সময়
নিয়ে মতভেদ থাকলেও দিকনির্দেশনা নিয়ে সন্দেহ নেই।’
ডলারের মান কমে যাওয়ায় আমেরিকানদের বৈদেশিক ক্রয়ক্ষমতা কমছে, যার প্রভাব পড়ছে
বিদেশ ভ্রমণ ও আমদানিনির্ভর ব্যয়ের ওপর। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারা দীর্ঘস্থায়ী
হলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে, কারণ আমদানিকৃত পণ্যের দাম
বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের
দীর্ঘদিনের আধিপত্য কি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে? কারণ, এই আধিপত্যই এতদিন
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের খরচ তুলনামূলকভাবে কম রাখতে সহায়তা করেছে।
ডলারের বর্তমান অবস্থান
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ডলার শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। বিশেষ করে ২০২০ থেকে
২০২২ সালের মধ্যে করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং উচ্চ সুদের হারের
কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছিল।
কিন্তু গত বছর ডলার ইনডেক্স প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়, যা ২০১৭ সালের পর সবচেয়ে
দুর্বল অবস্থান। এর বড় অংশের পতন ঘটে ট্রাম্পের ‘লিবারেশন ডে’ ট্যারিফ ঘোষণার
পরবর্তী সময়ে। চলতি মাসে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে
উত্তেজনা বাড়ায় ডলারের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হয়।
কেন কমছে ডলারের মান
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত
অনিশ্চয়তা ও বাজারে আস্থাহীনতার প্রতিফলন। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো
রবিন ব্রুকস বলেন, বাজার প্রশাসনের খামখেয়ালি নীতির প্রতি প্রতিক্রিয়া
জানাচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বেশি ক্ষতিকর হচ্ছে।
ম্যাককুয়ারির ফরেন এক্সচেঞ্জ স্ট্র্যাটেজিস্ট থিয়েরি উইজম্যানের মতে,
গ্রিনল্যান্ড ঘিরে বাণিজ্য উত্তেজনার দ্রুত বিস্তার শুধু ডলারের মানই কমায়নি,
বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের অস্থিরতার ঝুঁকিও বাড়িয়েছে।
এ ছাড়া বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি, জাপানের বন্ড মার্কেটে শেয়ার বিক্রি এবং
যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জাপানকে সহায়তায় সরাসরি হস্তক্ষেপের
কথা অস্বীকার করায় সাময়িকভাবে ডলার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে, তবু সামনে কী
সিদ্ধান্ত আসছে—তা নিয়ে বাজারে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
COMMENTS