
এনএনবি, ঢাকা
খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পণ্য খালাসে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব করার দায়ে
১৩টি জাহাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এ পর্যন্ত এসব
জাহাজ থেকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি
প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের
সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
কমোডর মো. শফিউল বারী। তিনি বলেন, পণ্য গুদামজাত করে বাজারে সংকট তৈরির
অপচেষ্টা রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালানো
হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা
বাড়ায় জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী মাদার ভেসেলের সংখ্যা
উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে ১১০টি জাহাজ
অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৩৬টি খাদ্যপণ্যবাহী এবং ৭৪টি অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ।
গত বছর রমজান মাসে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৪৩টি হলেও চলতি
বছরের জানুয়ারির প্রথমার্ধেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১টিতে।
হঠাৎ করে জাহাজের সংখ্যা বাড়ায় লাইটারেজ জাহাজের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে সাময়িক
সংকট দেখা দিলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ২ হাজার ২৫৮টি লাইটারেজ জাহাজ অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য
পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব
কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সহায়তা দিচ্ছে। গত
১৫ জানুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন নদীবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিয়মিত অভিযান
পরিচালিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ১৭ দিনে ৪০৯টি লাইটারেজ জাহাজ পরিদর্শন করা
হয়েছে। এর মধ্যে ২৯২টি জাহাজ ১০ দিনের কম, ৮৭টি ১০ দিনের বেশি এবং ৩০টি ২০
দিনের বেশি সময় ধরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। সর্বশেষ পরিদর্শনে নারায়ণগঞ্জ
থেকে যশোরের নওয়াপাড়া পর্যন্ত সব ঘাটে দ্রুতগতিতে পণ্য খালাসের চিত্র দেখা
গেছে।
এ ছাড়া পণ্য খালাস ও লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩০ জানুয়ারি
থেকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সফটওয়্যার চালু করা হয়েছে। তবে কিছু ঘাটে এখনো
ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ চলায় বিলম্ব হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মহাপরিচালক। এ
সমস্যা সমাধানে স্বয়ংক্রিয় ক্রেন ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তর জানিয়েছে, লাইটারেজ জাহাজ ব্যবস্থাপনায় পূর্ণাঙ্গ
স্থিতিশীলতা না আসা পর্যন্ত বিশেষ টাস্কফোর্সের অভিযান ও ডিজিটাল নজরদারি
অব্যাহত থাকবে।
COMMENTS