
এনএনবি, ঢাকা
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের
রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দুটি রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন, যা ভবিষ্যতে আর কেউ ভাঙতে
পারবেন না—এমন মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার প্রথম অনন্য অর্জন হলো—বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু
নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়া। দ্বিতীয়
রেকর্ডটি হলো—রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যেই দেশের
সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতায় পৌঁছানো।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি ২০২৫) রাজধানীর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সাবেক
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব
কথা বলেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, তার
রাজনীতিকে মূলত তিনটি পর্বে ভাগ করা যায়। প্রথম পর্ব ছিল ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল
পর্যন্ত—উত্থানের সময়কাল। এই সময়ে তিনি আন্দোলনের মাধ্যমে একটি বিপর্যস্ত
রাজনৈতিক দলকে পুনর্গঠন করেন এবং নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত হন।
দ্বিতীয় পর্ব হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন ১৯৯১ সাল থেকে সরকার পরিচালনার সময়কে।
এ সময় খালেদা জিয়া দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী এবং এক মেয়াদে বিরোধীদলীয় নেতার
দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্র পরিচালনার পথে নানা সীমাবদ্ধতা ও সংকটের মুখে
পড়তে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার পরিচালনায় যেমন সাফল্য থাকে, তেমনি থাকে
ব্যর্থতা ও সমালোচনা—এটাই বাস্তবতা। এরপর ২০০৭ সাল থেকে শুরু হয় তার দীর্ঘ
লড়াই ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অধ্যায়, যার মধ্য দিয়ে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে
পরিচিতি পান।
খালেদা জিয়ার বর্তমান ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, শেষ পর্বে এসে
তার প্রতি সাধারণ মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও সহানুভূতির যে বহিঃপ্রকাশ দেখা
যাচ্ছে, তা মূলত তার আপসহীন নেতৃত্বের প্রতিফলন। এই স্মৃতি মানুষ দীর্ঘদিন ধারণ
করে রাখবে।
ব্যক্তিত্বের দিক থেকে খালেদা জিয়ার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তার সবচেয়ে বড়
গুণ হলো তার মার্জিত ও এলিগেন্ট আচরণ, যা তাকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে এবং
মানুষের সম্মান আদায় করেছে।
বর্তমান রাজনীতিতে শিষ্টাচারের অভাবের কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন,
রাজনীতি কেন ভদ্র ও সজ্জন মানুষের পেশা হতে পারবে না। ক্রিকেটকে যেমন
ভদ্রলোকের খেলা বলা হয়, তেমনি রাজনীতিও কেন নৈতিকতা ও সৌজন্যের চর্চার
ক্ষেত্র হবে না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
২০২৪ সালের ৭ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর খালেদা জিয়ার দেওয়া এক
ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, সেখানে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি
থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দেশের ভবিষ্যতের জন্য তিনি ‘পলিটিক্স অফ
রিকনসিলিয়েশন’ বা সমঝোতার রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দেন।
বক্তব্যের শেষাংশে খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা নিজের একটি বইয়ের উৎসর্গপত্রের
কথা উল্লেখ করেন মহিউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সেখানে জালালউদ্দিন রুমির একটি
উদ্ধৃতি ব্যবহার করেছিলেন—আলো দিতে হলে নিজেকে পুড়তে হয়। তার মতে, খালেদা
জিয়া নিজের জীবন দিয়ে সেই কথারই বাস্তব প্রমাণ রেখে গেছেন।
COMMENTS