![]() |
| সংবাদপত্রের প্রকাশকদের সংগঠন নোয়াব ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের মিলনায়তরে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬ আয়োজন করে। । |
জুলীয়াস চৌধুরী
গণমাধ্যমের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা, ভিন্নমত দমনের প্রবণতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিক নেতারা। তারা বলেছেন, গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখন অনৈক্য, আর এই বিভাজনকেই পুঁজি করে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত আসছে। এই বাস্তবতায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
যেকোনো পরিস্থিতিতে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা এসেছে ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’ থেকে। শনিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এই সম্মিলনে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক, মালিক, সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা একত্র হন।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করে। আয়োজকেরা জানান, ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের সম্মিলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্মিলনের সূচনা হয়। পরে গণমাধ্যমের ইতিহাস, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সাম্প্রতিক আক্রমণ এবং সম্মিলনের লক্ষ্য নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ চিকিৎসার কারণে দেশের বাইরে থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।
তিনি বলেন, সমাজে ভিন্নমত ও বহুস্বর টিকে না থাকলে অপরাধ ও দমনমূলক প্রবণতা বাড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব গণমাধ্যমকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাপনী বক্তব্যে নূরুল কবীর বলেন, সাংবাদিকতা স্বভাবতই রাজনৈতিক সচেতন পেশা, কিন্তু রাজনৈতিক দলের দালালি নয়। গণমাধ্যমকে দলীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে আনতে হবে এবং একই সঙ্গে ইতিহাস ও নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
প্রথম আলো–ডেইলি স্টার–এ হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এ ক্ষেত্রে কিছু বিদেশি পডকাস্টারের ভূমিকা অনৈতিক। অতীতে নয়া দিগন্ত, সংগ্রামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত কোনো নতুন ঘটনা নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও স্বাধীন গণমাধ্যম—এই দুটি পেশাকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই দুই প্রতিষ্ঠান পরস্পরের পরিপূরক। আদালত অবমাননার মতো ক্ষমতা যেন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। গণমাধ্যম মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক মুনাফার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সাংবাদিকতাকে পরিচালনা করলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়।
চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হলে তথ্যশূন্যতা তৈরি হয়, যা ভুয়া সংবাদে পূর্ণ হয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। বগুড়ার দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও সাংবাদিকতার ওপর চাপ কমেনি; বরং ঝুঁকি বেড়েছে।
সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক ভাষা হতে পারে না। ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের সভাপতি রেজোয়ানুল হক বলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রায় সব সরকারই গণমাধ্যমকে শত্রু ভাবতে শুরু করে—এটাই বড় সংকট।
সম্মিলনে জাতীয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিভিন্ন সম্পাদক পরিষদ, ঢাকার বাইরে থেকে আসা সম্পাদক-প্রকাশক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলাম লেখক ও টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
গণমাধ্যমের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা, ভিন্নমত দমনের প্রবণতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষাপটে স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ সম্পাদক, প্রকাশক ও সাংবাদিক নেতারা। তারা বলেছেন, গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এখন অনৈক্য, আর এই বিভাজনকেই পুঁজি করে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত আসছে। এই বাস্তবতায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
যেকোনো পরিস্থিতিতে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা এসেছে ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’ থেকে। শনিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এই সম্মিলনে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক, মালিক, সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা একত্র হন।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করে। আয়োজকেরা জানান, ঢাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের সম্মিলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সম্মিলনের সূচনা হয়। পরে গণমাধ্যমের ইতিহাস, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সাম্প্রতিক আক্রমণ এবং সম্মিলনের লক্ষ্য নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। নোয়াব সভাপতি এ কে আজাদ চিকিৎসার কারণে দেশের বাইরে থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি।
প্রথম আলো–ডেইলি স্টারে হামলা ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’
সূচনা বক্তব্যে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার–এ হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, অগ্নিসংযোগের সময় দমকল বাহিনীকে বাধা দেওয়া মানে সাংবাদিকদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার প্রচেষ্টা। তাঁর ভাষায়, “আজ যেটা একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে হয়েছে, কাল সেটি অন্যটির সঙ্গেও হতে পারে।”তিনি বলেন, সমাজে ভিন্নমত ও বহুস্বর টিকে না থাকলে অপরাধ ও দমনমূলক প্রবণতা বাড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব গণমাধ্যমকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সমাপনী বক্তব্যে নূরুল কবীর বলেন, সাংবাদিকতা স্বভাবতই রাজনৈতিক সচেতন পেশা, কিন্তু রাজনৈতিক দলের দালালি নয়। গণমাধ্যমকে দলীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে আনতে হবে এবং একই সঙ্গে ইতিহাস ও নৈতিকতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।
পেশাগত স্বাধীনতা ও নৈতিকতার আহ্বান
প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান সাংবাদিকতায় পেশাগত স্বাধীনতা, ব্যক্তিপূজা পরিহার এবং বিকল্প দক্ষতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা কেবল চাকরি নয়; এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব। সাংবাদিকদের ‘দালাল’ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতায় তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বনের ফাঁদে না পড়ার আহ্বান জানান।প্রথম আলো–ডেইলি স্টার–এ হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এ ক্ষেত্রে কিছু বিদেশি পডকাস্টারের ভূমিকা অনৈতিক। অতীতে নয়া দিগন্ত, সংগ্রামসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত কোনো নতুন ঘটনা নয়।
সরকার ও বিচার বিভাগের জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা সরকার ও রাষ্ট্রের জন্যই সবচেয়ে বেশি উপকারী। কারণ ক্ষমতার ভেতরে কেউ সত্য কথা বলার সাহস করে না। তিনি বলেন, “স্বাধীন সাংবাদিকতাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যা সরকারকে সত্য কথা বলে।”তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও স্বাধীন গণমাধ্যম—এই দুটি পেশাকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই দুই প্রতিষ্ঠান পরস্পরের পরিপূরক। আদালত অবমাননার মতো ক্ষমতা যেন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধে ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। গণমাধ্যম মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক মুনাফার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সাংবাদিকতাকে পরিচালনা করলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়।
সাংবাদিক ঐক্য ও সংস্কার প্রশ্ন
প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সবচেয়ে ক্ষতিকর। মত ও আদর্শ ভিন্ন হলেও সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে—এমন ভাবনার সুযোগ নেই।চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হলে তথ্যশূন্যতা তৈরি হয়, যা ভুয়া সংবাদে পূর্ণ হয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। বগুড়ার দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও সাংবাদিকতার ওপর চাপ কমেনি; বরং ঝুঁকি বেড়েছে।
সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক ভাষা হতে পারে না। ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের সভাপতি রেজোয়ানুল হক বলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রায় সব সরকারই গণমাধ্যমকে শত্রু ভাবতে শুরু করে—এটাই বড় সংকট।
সম্মিলনে জাতীয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিভিন্ন সম্পাদক পরিষদ, ঢাকার বাইরে থেকে আসা সম্পাদক-প্রকাশক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলাম লেখক ও টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

COMMENTS