
এনএনবি
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ ততই বাড়ছে।
চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছে ১৭০ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত
বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। গড়ে প্রতিদিন দেশে আসছে
১২ কোটি ১৬ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু ১৪ জানুয়ারিতেই দেশে প্রবাসী আয়
এসেছে ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এ নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ জানুয়ারি
পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৯৬ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই
সময়ে এ অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। ফলে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রবাসী
আয়ে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
ব্যাংকাররা মনে করছেন, চলতি মাসের বাকি দিনগুলোতেও প্রবাসী আয়ের ধারা শক্তিশালী
থাকবে। গত ডিসেম্বর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ডলার, যা নভেম্বরের
তুলনায় ৩৩ কোটি ডলার বেশি। নভেম্বর মাসে প্রবাসী আয় ছিল প্রায় ২৮৯ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৮২
কোটি ডলারে, যা বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায়
সমান। প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক প্রবণতার ফলে গত বছর ডলারের বাজারে বড় ধরনের
সংকট দেখা যায়নি। বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়
ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনেছে, যার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে।
একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে অতিরিক্ত প্রবাসী আয় আসছে, তার
একটি বড় অংশ নির্বাচনী ব্যয় মেটানোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে। যেসব দেশে প্রবাসী
বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি, সেখান থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ তুলনামূলকভাবে বেশি।
অনেক ক্ষেত্রে বিদেশে তহবিল সংগ্রহ করে তা প্রবাসী আয়ের নামে দেশে পাঠানো
হচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন
সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নির্বাচন ও রমজান—এই দুই কারণে মার্চ মাস পর্যন্ত
রেমিট্যান্সের গতি ভালো থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন
ডলারে পৌঁছেছিল। পরে তা কমে আসে এবং ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের
পতনের সময় রিজার্ভ নেমে যায় ২৬ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে তা আবার বেড়ে ৩২ বিলিয়ন
ডলারে উন্নীত হয়েছে। রিজার্ভ কমে যাওয়ার সময় দেশে ডলার সংকট তীব্র আকার ধারণ
করেছিল এবং ব্যাংক খাতে ডলারের দাম ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এখন পরিস্থিতির
উন্নতির ফলে ডলারের দর কমে ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে লেনদেন হচ্ছে।
COMMENTS