
এনএনবি
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার জন্য একটি আন্তর্জাতিক ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি
বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৫) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে
দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, বোর্ড অব পিস গঠনের ঘোষণা দিতে পেরে তিনি
গর্বিত। বোর্ডের সদস্যদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে উল্লেখ করে তিনি দাবি
করেন, এটি হবে বিশ্বের যেকোনো সময় ও স্থানে গঠিত শান্তি বোর্ডগুলোর মধ্যে
সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ।
এর আগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, গাজা যুদ্ধ
বন্ধে ট্রাম্প ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির
দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। একই দিন ট্রাম্প পৃথক এক পোস্টে তার পরিকল্পনার
পরবর্তী ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা জানান।
ট্রাম্প বলেন, বোর্ড অব পিসের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি গাজা পরিচালনার জন্য গঠিত
নবনিযুক্ত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার—ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য
অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজাকে সমর্থন দিচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সময়ে বোর্ডের একজন
উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি গাজা শাসনে এই কমিটিকে সহায়তা করবেন বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্পের ভাষায়, সংশ্লিষ্ট ফিলিস্তিনি নেতারা একটি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের
প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, মিসর, তুরস্ক ও কাতারের সহযোগিতায় হামাসের সঙ্গে একটি বড় ধরনের
নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে। এ চুক্তির আওতায় হামাসকে তাদের সব
অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে হবে।
ট্রাম্পের দাবি, হামাসকে অবিলম্বে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে, যার
মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের কাছে সর্বশেষ জিম্মিদের মরদেহ হস্তান্তর এবং পূর্ণাঙ্গ
নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হওয়া। তিনি সতর্ক করে বলেন, শান্তির পথ বেছে
নেওয়া সহজ, অন্যথায় কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে। গাজার জনগণের দুর্ভোগের কথা
উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এখনই শান্তির সময়।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প গাজা সংকট নিরসনে একটি ২০ দফা শান্তি
পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি, গাজা থেকে
ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, টেকনোক্র্যাট প্রশাসন গঠন এবং একটি আন্তর্জাতিক
স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের
শর্তও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে
পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি
নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজার ৩০০ জনের
বেশি মানুষ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও
ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই সময়ের মধ্যে ৪৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং
এক হাজার ২০০–এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
বোর্ড অব পিস সম্পর্কে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ট্রাম্পের শান্তি
পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন থাকবে এই আন্তর্জাতিক বোর্ডের
অধীনে। বোর্ডের সম্ভাব্য সদস্যদের মধ্যে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক দূত
নিকোলাই নিয়াদেনভের নাম আলোচনায় রয়েছে।
ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডের
দাভোসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বোর্ড অব পিস নিয়ে আরও বিস্তারিত ঘোষণা আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বোর্ডের সদস্য নির্বাচন করেছেন
স্বয়ং ট্রাম্প এবং বুধবারই সংশ্লিষ্টদের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।
বোর্ডের অধীনে গঠিত গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রথম পর্যায়ে জরুরি ত্রাণ
কার্যক্রমে গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্রধান আলী শায়াথ।
তিনি বলেন, গাজা পুনর্গঠনে তিন বছরের বেশি সময় লাগবে না। তবে জাতিসংঘের এক
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপত্যকার ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুরোপুরি পুনর্গঠনে
অন্তত ২০৪০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
COMMENTS