
এনএনবি, ঢাকা
অন্তর্বর্তী সরকারকে ইঙ্গিত করে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
বলেছেন, নতুন শক্তির কথা বললেও সরকার শেষ পর্যন্ত একটি ক্ষুদ্র ও উগ্র গোষ্ঠীর
প্রভাবের মধ্যে পড়ে গেছে। এর ফলে তারা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি
এবং এখন নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে কি না, সেটিও প্রশ্নের মুখে
পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৫) দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘আগামী
সরকারের জন্য নির্বাচিত নীতি সুপারিশ ও প্রস্তাবিত জাতীয় কর্মসূচি’ শীর্ষক
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এই
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি
দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য যে সক্ষমতা, অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং উন্মুক্ততা
প্রয়োজন ছিল, তা তারা দেখাতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সংলাপে শুধু
রাজনীতিবিদদের গুরুত্ব দিয়েছে, কিন্তু জাতীয় পর্যায়ের বিস্তৃত অংশগ্রহণের
মাধ্যমে নতুন বন্দোবস্তের ধারণা সামনে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংলাপে অংশীজনদের মতামত না নেওয়ার কারণে দুটি বড় সমস্যা সৃষ্টি
হয়েছে। প্রথমত, যারা নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্তের রূপকার হতে
চেয়েছিলেন, তারা শেষ পর্যন্ত পুরোনো ব্যবস্থার অংশ হয়ে গেছেন এবং ব্যয়বহুল
নির্বাচনী রাজনীতির ভেতরে ঢুকে পড়েছেন। দ্বিতীয়ত, পুরোনো ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত
স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব আবার বেড়েছে।
গণ-অভ্যুত্থানের পরের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা দেশ
ছেড়েছেন, রাজনীতিবিদেরা আত্মগোপনে গেছেন, কিন্তু আমলাতন্ত্র আবার শক্তভাবে ফিরে
এসেছে। পুরোনো বন্দোবস্তের প্রধান রক্ষক হিসেবে আমলাতন্ত্র নতুন করে প্রভাব
বিস্তার করেছে, আর এই সুযোগটি করে দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী সরকারের জন্য ১২টি নীতি বিবৃতি ও প্রস্তাবিত জাতীয়
কর্মসূচি তুলে ধরা হয়। নীতি সুপারিশ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান
এবং জাতীয় কর্মসূচি উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল
ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য আসিফ ইব্রাহিম,
রাশেদা কে চৌধূরী, শাহীন আনাম ও সুলতানা কামালসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
COMMENTS