![]() |
| বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত |
জুলীয়াস চৌধুরী
দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নেতৃত্বগত শূন্যতার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন চেয়ারম্যান পেল। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তারেক রহমান বিএনপির সর্বোচ্চ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। তিনি সাবেক ২জন জনপ্রিয় রাষ্ট্রপ্রধানের জ্যেষ্ঠ সন্তান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানের নিযুক্তি অনুমোদন করেছে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। সভায় শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তারেক রহমান ইতোমধ্যে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান যেন সফলভাবে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন, সে জন্য সবাই দোয়া করেছেন।”
বিএনপির মিডিয়া সেল এবং দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় স্থায়ী কমিটির এ বৈঠক পূর্বনির্ধারিত ছিল না এবং নির্দিষ্ট কোনো অ্যাজেন্ডাও ছিল না। তবে বৈঠক শেষে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। একই রাতে বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও তারেক রহমানের ছবি সংযুক্ত করে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে, ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, খুব শিগগিরই দলের চেয়ারম্যান পদে নেতৃত্বগত পরিবর্তন আসছে। গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ১০ দিনের মাথায় সেই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলো।
দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’(৩) ধারায় বলা আছে, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন। সে অনুযায়ী তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, যা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেল।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৮৮ সালে। বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে তিনি দেশের প্রায় সব জেলায় প্রচারণা চালান। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা বিএনপিতে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়ে তিনি দলে গণতান্ত্রিক চর্চার নজির স্থাপন করেন।
২০০২ সালে তাঁকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। ২০০৫ সালে দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়।
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাবরণ করেন এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনজীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। তাঁর প্রত্যাবর্তনের দিন রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং পূর্বাচলে আয়োজিত এক বিশাল সংবর্ধনায় তিনি অংশ নেন।
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দলটির নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নেতৃত্বগত শূন্যতার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন চেয়ারম্যান পেল। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে তারেক রহমান বিএনপির সর্বোচ্চ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। তিনি সাবেক ২জন জনপ্রিয় রাষ্ট্রপ্রধানের জ্যেষ্ঠ সন্তান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানের নিযুক্তি অনুমোদন করেছে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। সভায় শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তারেক রহমান ইতোমধ্যে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান যেন সফলভাবে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন, সে জন্য সবাই দোয়া করেছেন।”
বিএনপির মিডিয়া সেল এবং দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় স্থায়ী কমিটির এ বৈঠক পূর্বনির্ধারিত ছিল না এবং নির্দিষ্ট কোনো অ্যাজেন্ডাও ছিল না। তবে বৈঠক শেষে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। একই রাতে বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও তারেক রহমানের ছবি সংযুক্ত করে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে, ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, খুব শিগগিরই দলের চেয়ারম্যান পদে নেতৃত্বগত পরিবর্তন আসছে। গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ১০ দিনের মাথায় সেই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলো।
দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’(৩) ধারায় বলা আছে, চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন। সে অনুযায়ী তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, যা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেল।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৮৮ সালে। বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে তিনি দেশের প্রায় সব জেলায় প্রচারণা চালান। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা বিএনপিতে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়ে তিনি দলে গণতান্ত্রিক চর্চার নজির স্থাপন করেন।
২০০২ সালে তাঁকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। ২০০৫ সালে দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়।
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনা–সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাবরণ করেন এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনজীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। তাঁর প্রত্যাবর্তনের দিন রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং পূর্বাচলে আয়োজিত এক বিশাল সংবর্ধনায় তিনি অংশ নেন।
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান। বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দলটির নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

COMMENTS