
জুলীয়াস চৌধুরী
দেশের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানো এবং ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্যনিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটল সরকার। দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকা মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে পুনর্জীবিত করে নতুন তালিকা ও নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর।
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় নতুন করে ১৩৫ থেকে ১৩৬টি ওষুধ যুক্ত করে মোট ২৯৫টি জেনেরিক ওষুধকে সরকার ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করেছে। এসব ওষুধ সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক হবে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তালিকার হালনাগাদ ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সংজ্ঞাগতভাবেই এমন ওষুধ, যা দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের অধিকাংশ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। নতুন তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর দাম সরকার নির্ধারণ করবে এবং নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোনো কোম্পানি ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, দেশের মানুষের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ চলে যায় ওষুধের পেছনে। এই ব্যয় যেন চিকিৎসা গ্রহণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
তিনি জানান, যেসব ওষুধ বর্তমানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে সেই দামে নামিয়ে আনতে হবে। আর যেসব ওষুধ তুলনামূলক কম দামে রয়েছে, তারা চাইলে নির্ধারিত সীমার মধ্যে দাম সমন্বয় করতে পারবে। এই সমন্বয়ের জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলোকে চার বছর সময় দেওয়া হবে এবং প্রতি বছর ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয় করতে হবে।
অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরে থাকা প্রায় ১ হাজার ১০০ জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রেও নতুন নীতিমালায় নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। এসব ওষুধের জন্য সরকার নির্দিষ্ট দাম বেঁধে না দিয়ে একটি মূল্যপরিসর নির্ধারণ করবে, যার মধ্যে নির্ধারিত মূল্যের ১৫ শতাংশ কম বা বেশি দামে বিক্রি করা যাবে। যদি কোনো ওষুধ সাতটির বেশি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করে, তাহলে বাজারে প্রচলিত দামের মধ্যমা (মেডিয়ান প্রাইস) ধরে মূল্য নির্ধারণ হবে। আর উৎপাদক সাতটির কম হলে আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে, ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিপি) সমন্বয় করে দাম অনুমোদন দেওয়া হবে।
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান আরও বলেন, এই তালিকা ও নীতিমালা প্রণয়নে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রীতিনীতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স ও কমিটি ওষুধবিশেষজ্ঞ, ওষুধশিল্পের মালিক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও পরামর্শকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে সুপারিশ গ্রহণ করে।
তালিকাভুক্ত ওষুধের মধ্যে সংক্রামক রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ক্যানসার চিকিৎসার সব আধুনিক ওষুধ এই তালিকায় নেই বলে জানান তিনি, কারণ এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধে দ্রুত পরিবর্তন আসে।
নীতিমালায় দেশীয় এপিআই (ওষুধের কাঁচামাল) উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, এপিআই আমদানির আগে আমদানিকারকদের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট এপিআই দেশে উৎপাদিত হয় না বা পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই, কিংবা দেশীয় উৎপাদনের মূল্য আন্তর্জাতিক রেফারেন্স মূল্যের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ ও ২০১৬ সালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর তদারকি ও মূল্যনিয়ন্ত্রণ না থাকায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়েছে। ২০১৬ সালে ২৮৬টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা থাকলেও মাত্র ১১৭টির দাম সরকার নির্ধারণ করতে পেরেছিল। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে কোনো ওষুধই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে না বলে আশা করছে সরকার।
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে মানুষের ওপর ওষুধের ব্যয়ের চাপ কমাতে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি একে বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেশের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানো এবং ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্যনিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটল সরকার। দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকা মূল্যনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে পুনর্জীবিত করে নতুন তালিকা ও নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর।
অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় নতুন করে ১৩৫ থেকে ১৩৬টি ওষুধ যুক্ত করে মোট ২৯৫টি জেনেরিক ওষুধকে সরকার ‘অত্যাবশ্যকীয়’ ঘোষণা করেছে। এসব ওষুধ সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক হবে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তালিকার হালনাগাদ ও ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে) অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ সংজ্ঞাগতভাবেই এমন ওষুধ, যা দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের অধিকাংশ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট। নতুন তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর দাম সরকার নির্ধারণ করবে এবং নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোনো কোম্পানি ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, দেশের মানুষের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ চলে যায় ওষুধের পেছনে। এই ব্যয় যেন চিকিৎসা গ্রহণের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
তিনি জানান, যেসব ওষুধ বর্তমানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে সেই দামে নামিয়ে আনতে হবে। আর যেসব ওষুধ তুলনামূলক কম দামে রয়েছে, তারা চাইলে নির্ধারিত সীমার মধ্যে দাম সমন্বয় করতে পারবে। এই সমন্বয়ের জন্য ওষুধ কোম্পানিগুলোকে চার বছর সময় দেওয়া হবে এবং প্রতি বছর ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয় করতে হবে।
অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরে থাকা প্রায় ১ হাজার ১০০ জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রেও নতুন নীতিমালায় নিয়ন্ত্রণ আনা হয়েছে। এসব ওষুধের জন্য সরকার নির্দিষ্ট দাম বেঁধে না দিয়ে একটি মূল্যপরিসর নির্ধারণ করবে, যার মধ্যে নির্ধারিত মূল্যের ১৫ শতাংশ কম বা বেশি দামে বিক্রি করা যাবে। যদি কোনো ওষুধ সাতটির বেশি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন করে, তাহলে বাজারে প্রচলিত দামের মধ্যমা (মেডিয়ান প্রাইস) ধরে মূল্য নির্ধারণ হবে। আর উৎপাদক সাতটির কম হলে আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে, ক্রয়ক্ষমতা সমতা (পিপিপি) সমন্বয় করে দাম অনুমোদন দেওয়া হবে।
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান আরও বলেন, এই তালিকা ও নীতিমালা প্রণয়নে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রীতিনীতি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স ও কমিটি ওষুধবিশেষজ্ঞ, ওষুধশিল্পের মালিক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও পরামর্শকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে সুপারিশ গ্রহণ করে।
তালিকাভুক্ত ওষুধের মধ্যে সংক্রামক রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগের প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ক্যানসার চিকিৎসার সব আধুনিক ওষুধ এই তালিকায় নেই বলে জানান তিনি, কারণ এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধে দ্রুত পরিবর্তন আসে।
নীতিমালায় দেশীয় এপিআই (ওষুধের কাঁচামাল) উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, এপিআই আমদানির আগে আমদানিকারকদের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নিতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট এপিআই দেশে উৎপাদিত হয় না বা পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই, কিংবা দেশীয় উৎপাদনের মূল্য আন্তর্জাতিক রেফারেন্স মূল্যের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ ও ২০১৬ সালে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করা হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর তদারকি ও মূল্যনিয়ন্ত্রণ না থাকায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়েছে। ২০১৬ সালে ২৮৬টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা থাকলেও মাত্র ১১৭টির দাম সরকার নির্ধারণ করতে পেরেছিল। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে কোনো ওষুধই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে না বলে আশা করছে সরকার।
অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে মানুষের ওপর ওষুধের ব্যয়ের চাপ কমাতে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি একে বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
COMMENTS