
এনএনবি, ঢাকা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে
অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ব্রিটিশ
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী ব্যারনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ
মন্তব্য করেন।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে আওয়ামী লীগের
কার্যক্রম স্থগিত থাকায় দলটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তিনি
আরও জানান, নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকা থেকেও
বাদ দিয়েছে।
বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন, অবৈধ অভিবাসন রোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকট
এবং বিমান ও সামুদ্রিক খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা
হয়।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি
হবে অংশগ্রহণমূলক। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরের স্বৈরশাসনে বিকৃত তিনটি নির্বাচনে
ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত কোটি কোটি তরুণ এবার প্রথমবার ভোট দিতে পারবে।
জুলাই চার্টার প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য “এক নতুন
সূচনা” সৃষ্টি করবে এবং গত বছরের জুলাই–আগস্টের গণবিদ্রোহে অংশ নেওয়া লাখো
মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করবে।
ব্রিটিশ উন্নয়ন মন্ত্রী ব্যারনেস চ্যাপম্যান অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা
করেন এবং জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন ও জাতীয় ঐকমত্যের প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দেন।
তিনি অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানান এবং নিরাপদ, বৈধ অভিবাসনের
ওপর জোর দেন।
উত্তরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, তাঁর সরকার নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কাজ করছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে বিস্তর আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “শিবিরের
তরুণেরা আশাহীন হয়ে বড় হচ্ছে—রাগান্বিত ও হতাশ। তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত
করা জরুরি।” ব্রিটিশ মন্ত্রী বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত
রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
দুই পক্ষ বিমান ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়েও কথা বলে। অধ্যাপক ইউনূস
জানান, বাংলাদেশ উপকূলীয় ও সামুদ্রিক গবেষণার জন্য একটি ব্রিটিশ গবেষণা জাহাজ
কিনতে যাচ্ছে। মন্ত্রী চ্যাপম্যান জানান, এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনালের প্রধান
শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসবেন।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, এসডিজি কো-অর্ডিনেটর লামিয়া
মোর্শেদ এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক উপস্থিত ছিলেন।
COMMENTS