
গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর জেলায় নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিম ও অবৈধ মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কার্যক্রম নতুন মাত্রায় বিস্তার লাভ করেছে। “অল্প বিনিয়োগে নিশ্চিত কোটিপতি”, “রেফারেল বোনাসে জীবন বদলে যাবে”, “ঘরে বসেই প্যাসিভ ইনকাম”— এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে সংগঠিত প্রতারক চক্র। আইন থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতি, আর্থিক অজ্ঞতা এবং দ্রুত লাভের মানসিকতাকে পুঁজি করে এসব চক্র শিল্পাঞ্চল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
অবৈধ এমএলএম ও নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিমে নতুন সদস্য সংগ্রহে বিপুল লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারকরা প্রশাসনের চোখের সামনেই নিয়মিত সভা-সেমিনার আয়োজন করছে; এসব কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দেশজুড়ে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে লাইসেন্সহীন ‘সিকোইয়া’, `নেক্সট কমিউনিটি', ‘এমজে বাজার’, ‘উইথলোকালস’, ‘এসবিএফ২৬’, ‘নিউলাইফ’, ‘অ্যাকসেল’সহ নানা নামে একাধিক পিরামিড স্কিম ও অবৈধ এমএলএম কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে। এদের অধিকাংশই প্রকৃত ব্যবসা ছাড়াই সদস্য সংগ্রহকে মূল আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে।
অবৈধ এমএলএম ও নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিমে নতুন সদস্য সংগ্রহে বিপুল লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারকরা প্রশাসনের চোখের সামনেই নিয়মিত সভা-সেমিনার আয়োজন করছে; এসব কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দেশজুড়ে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অবৈধ এমএলএম ও নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিম সংশ্লিষ্ট চক্রগুলো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস—যেমন বিকাশ, নগদসহ অনুরূপ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতি মাসে শত কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন পরিচালনা করছে। এসব মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের বড় একটি অংশ বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে পাচার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গাজীপুর জেলায় নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিম ও অবৈধ মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কার্যক্রম নতুন মাত্রায় বিস্তার লাভ করেছে। “অল্প বিনিয়োগে নিশ্চিত কোটিপতি”, “রেফারেল বোনাসে জীবন বদলে যাবে”, “ঘরে বসেই প্যাসিভ ইনকাম”— এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে সংগঠিত প্রতারক চক্র। আইন থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে তদারকির ঘাটতি, আর্থিক অজ্ঞতা এবং দ্রুত লাভের মানসিকতাকে পুঁজি করে এসব চক্র শিল্পাঞ্চল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।
অবৈধ এমএলএম ও নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিমে নতুন সদস্য সংগ্রহে বিপুল লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারকরা প্রশাসনের চোখের সামনেই নিয়মিত সভা-সেমিনার আয়োজন করছে; এসব কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দেশজুড়ে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে লাইসেন্সহীন ‘সিকোইয়া’, `নেক্সট কমিউনিটি', ‘এমজে বাজার’, ‘উইথলোকালস’, ‘এসবিএফ২৬’, ‘নিউলাইফ’, ‘অ্যাকসেল’সহ নানা নামে একাধিক পিরামিড স্কিম ও অবৈধ এমএলএম কোম্পানি সক্রিয় রয়েছে। এদের অধিকাংশই প্রকৃত ব্যবসা ছাড়াই সদস্য সংগ্রহকে মূল আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছে।
অবৈধ এমএলএম ও নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিমে নতুন সদস্য সংগ্রহে বিপুল লাভের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারকরা প্রশাসনের চোখের সামনেই নিয়মিত সভা-সেমিনার আয়োজন করছে; এসব কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দেশজুড়ে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অবৈধ এমএলএম ও নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিম সংশ্লিষ্ট চক্রগুলো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস—যেমন বিকাশ, নগদসহ অনুরূপ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রতি মাসে শত কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন পরিচালনা করছে। এসব মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের বড় একটি অংশ বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে পাচার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
![]() |
| প্রতারক সিন্ডিকেটের একাংশ |
কীভাবে কাজ করে এই পিরামিড স্কিম
পিরামিড স্কিম মূলত একটি ভঙ্গুর আর্থিক কাঠামো, যেখানে নতুন সদস্যদের বিনিয়োগ দিয়েই পুরোনো সদস্যদের লভ্যাংশ দেওয়া হয়। এখানে বাস্তব পণ্য বা সেবার কোনো টেকসই ভিত্তি থাকে না। অর্থনীতির ভাষায় এটি একটি unsustainable recruitment-driven model— যেখানে সদস্য বৃদ্ধি থেমে গেলেই পুরো কাঠামো ধসে পড়ে এবং অধিকাংশ বিনিয়োগকারী মূলধন হারান।বাংলাদেশে ২০১৩ সালের মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (কন্ট্রোল) অ্যাক্ট অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া এমএলএম পরিচালনা এবং পিরামিড স্কিম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন ভঙ্গ করলে তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। প্রতারণা প্রমাণিত হলে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্বিগুণ অর্থ ফেরতের নির্দেশও দিতে পারে আদালত।
নকল পরিচয়ে প্রতারণা
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতারক চক্রগুলো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম বা ব্র্যান্ডের সাথে মিল রেখে নিজেদের পরিচয় তৈরি করে আস্থা অর্জন করছে। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ‘উইথলোকালস’ পরিচয়ে পরিচালিত একটি চক্র ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে এবং জামালপুর থেকে চক্রের মূল হোতাসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।বিশ্বব্যাপী এই ধরনের প্রতারণায় ব্র্যান্ড-ইমিটেশন, ভুয়া রেজিস্ট্রেশন, জাল লাইসেন্স এবং সাজানো “সাফল্যের গল্প” ব্যবহার করা হয়—গাজীপুরেও একই কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে।
শিল্পাঞ্চল টার্গেট: শ্রমিক-শিক্ষার্থী-গৃহিণী
গাজীপুরের বিস্তৃত শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে প্রতারণার জাল বিস্তার করা হয়েছে। শ্রমিক, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, শিক্ষার্থী এবং গৃহিণীরা প্রধান লক্ষ্যবস্তু। কারখানার গেট, মেস-বাড়ি, কোচিং সেন্টার এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানেও “মোটিভেশনাল সেমিনার” আয়োজন করে সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।প্রথমে স্বল্প টাকার বিনিয়োগ—তারপর নতুন সদস্য আনলে কমিশন—এভাবে গড়ে ওঠে চেইন। কয়েকজন প্রাথমিক সদস্য সামান্য লাভ পেলেও শেষ পর্যন্ত অধিকাংশই মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি একটি wealth transfer mechanism, যেখানে নিচের স্তরের বহু মানুষের অর্থ উপরের কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।
‘মিস্ট্রাল এআই’ নামের আড়ালে আত্মসাৎ
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ‘মিস্ট্রাল এআই’ পরিচয়ে পরিচালিত একটি চক্র কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আলোচনায় আসে। ভুক্তভোগীদের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রেপ্তার ও বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।তদন্তে উঠে এসেছে, “AI ট্রেডিং”, “ক্রিপ্টো ইনভেস্টমেন্ট”, “অটোমেটেড প্রফিট”—এমন প্রযুক্তিগত শব্দ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে কোনো কার্যকর ব্যবসা বা বিনিয়োগ কাঠামো ছিল না।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব
গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ বা নাগরিক অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানা এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট আইনগত দায়িত্ব রয়েছে।থানার ক্ষেত্রে, আমলযোগ্য অপরাধের তথ্য পাওয়া মাত্রই এফআইআর গ্রহণ, প্রাথমিক তদন্ত শুরু, অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনা, ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ এবং তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা বাধ্যতামূলক। সংবাদ প্রকাশিত হলেও পুলিশ সুয়োমোটো ভিত্তিতে মামলা নিতে পারে।
অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের দায়িত্ব হলো অভিযোগ গ্রহণ করে প্রাথমিক যাচাই, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানে নোটিশ প্রদান, শুনানি আয়োজন, প্রমাণ সাপেক্ষে জরিমানা আরোপ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। গুরুতর আর্থিক প্রতারণার ক্ষেত্রে তারা বিষয়টি পুলিশ, দুদক বা সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠাতে বাধ্য।
নাগরিক সমাজের উদ্বেগ
জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “এটি শুধু আর্থিক প্রতারণা নয়, এটি সামাজিক আস্থা ধ্বংসের প্রক্রিয়া। সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে এই চক্র দ্রুতই নিমূল করা উডিত।”গাজীপুর নাগরিক কমিটির সভাপতি জুলীয়াস চৌধুরী আরও সুনির্দিষ্টভাবে বলেন, “পিরামিড স্কিম ও অবৈধ এমএলএম এখন সংগঠিত অর্থনৈতিক অপরাধে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন যদি প্রতিটি অভিযোগকে বাধ্যতামূলকভাবে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে, দ্রুত তদন্ত চালায়, ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে এবং সম্পদ জব্দের ব্যবস্থা নেয়— তাহলে এই চক্র টিকতে পারবে না। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরকে নিয়মিত অভিযান, জরিমানা এবং প্রতারণাকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এই অপরাধচক্র দেশের অর্থনীতি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচার করে নিয়ে যাবে।”
কেন ভয়াবহ?
নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিম ও অবৈধ এমএলএম ব্যবসা বহুমাত্রিক সংকট তৈরি করে। পরিবারগুলো ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে, পারিবারিক অস্থিরতা বাড়ে এবং চরম ক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঝুঁকিও তৈরি হয়। সঞ্চয় হারানোর ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। একই সঙ্গে এই অবৈধ অর্থ লেনদেন অপরাধচক্রকে শক্তিশালী করে এবং মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকি বাড়ায়। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়, ফলে প্রতারণার বিস্তার আরও দ্রুত হয়।সতর্কতার উপায়
বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও সরকারি অনুমোদন যাচাই করা জরুরি। “নিশ্চিত উচ্চ মুনাফা” প্রতিশ্রুতি সবসময় ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। কোনো প্রতিষ্ঠানে পণ্যের চেয়ে সদস্য সংগ্রহে বেশি গুরুত্ব দিলে সেটি পিরামিড স্কিম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত থানায় এবং ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানো উচিত, যাতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।গাজীপুরে অবৈধ এমএলএম ও নিষিদ্ধ পিরামিড স্কিমের বিস্তার স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে লোভনীয় প্রতিশ্রুতির আড়ালে সংগঠিত আর্থিক অপরাধ কত দ্রুত সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কার্যকর আইন প্রয়োগ, আন্তঃসংস্থার সমন্বয় এবং জনসচেতনতার সমন্বিত প্রয়াসেই এই বিপজ্জনক চক্র ভাঙা সম্ভব।

COMMENTS