![]() |
| অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের নামে পরিচালিত অ্যাপগুলো বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণার মাধ্যম। কোলাজ: এনএনবি |
বিশেষ প্রতিনিধি
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত একটি বৈধ আয়ের মাধ্যম হলেও বর্তমানে এর আড়ালে নানাবিধ আর্থিক প্রতারণা বা অ্যাফিলিয়েট প্রতারণা বেড়েই চলেছে। প্রতারকরা বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও ভুয়া অফারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এবং বিজ্ঞাপনদাত, উভয়কেই বিভ্রান্ত করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "ঘরে বসে কোনো পরিশ্রম ছাড়াই প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আয়" করার লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করা হয়। ভুয়া স্কিমগুলোতে প্রশিক্ষণের নামে বা "মেম্বারশিপ" ফি'র নামে শুরুতেই বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। অনেক সময় এমন সব পণ্যের প্রচারণা করা হয় যেগুলোর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই অথবা সেগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের। এছাড়া, তারা প্রকৃত পণ্য বিক্রির চেয়ে নতুন সদস্য যুক্ত করার (রেফার করা) ওপর বেশি জোর দেয়, যা মূলত একটি 'পঞ্জি স্কিম' বা পিরামিড স্কিম।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত একটি বৈধ আয়ের মাধ্যম হলেও বর্তমানে এর আড়ালে নানাবিধ আর্থিক প্রতারণা বা অ্যাফিলিয়েট প্রতারণা বেড়েই চলেছে। প্রতারকরা বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও ভুয়া অফারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এবং বিজ্ঞাপনদাত, উভয়কেই বিভ্রান্ত করে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে "ঘরে বসে কোনো পরিশ্রম ছাড়াই প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আয়" করার লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করা হয়। ভুয়া স্কিমগুলোতে প্রশিক্ষণের নামে বা "মেম্বারশিপ" ফি'র নামে শুরুতেই বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। অনেক সময় এমন সব পণ্যের প্রচারণা করা হয় যেগুলোর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই অথবা সেগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের। এছাড়া, তারা প্রকৃত পণ্য বিক্রির চেয়ে নতুন সদস্য যুক্ত করার (রেফার করা) ওপর বেশি জোর দেয়, যা মূলত একটি 'পঞ্জি স্কিম' বা পিরামিড স্কিম।
![]() |
| প্রতারকরা জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম প্রচার করে ব্যবহারকারীদের ইনকাম করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ছবি: প্রতারকের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল |
এর পাশাপাশি, অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং-এর নামে পরিচালিত অ্যাপগুলো বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণার মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। প্রতারকরা জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামে ক্লোন বা ফেক অ্যাপ তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ইনকাম করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে অ্যাপ ডাউনলোড করতে বাধ্য করে তথ্য চুরি এবং অর্থ হাতিয়ে নেয়। ব্যবহারকারীকে প্রথমে কিছু টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হয় এবং দেখানো হয় যে অ্যাকাউন্টে লাভ জমা হচ্ছে। কিন্তু টাকা তোলার (Withdraw) সময় তারা আরও বেশি টাকা দাবি করে অথবা অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয়। এছাড়া, ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্রাউজারে ট্র্যাকিং কোড ঢুকিয়ে দেওয়া হয় যাতে অবৈধভাবে কমিশন হাতিয়ে নেওয়া যায়।
এই ভুয়া অ্যাপগুলো ইনস্টল করার পর ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যেমন: কন্টাক্ট লিস্ট, ফটো এবং পাসওয়ার্ড চুরি করে হ্যাকাররা দূর থেকে ফোন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। প্রতারকরা ফোন বা সিম ক্লোন করে ব্যবহারকারীর বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওটিপি (OTP) বাইপাস করে টাকা সরিয়ে নেয়। অনেক সময় "অ্যাডভান্স ফি" বা "রেজিস্ট্রেশন ফি" হিসেবে টাকা নিয়ে প্রতারকরা উধাও হয়ে যায়।
এধরনের অনলাইন আর্থিক প্রতারণা থেকে নিরাপদ থাকতে মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি এক বার্তায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, কিছু গ্রাহক হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন ব্যাংকিংয়ে আর্থিক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা রোধে কয়েকটি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করার পরামর্শ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নামে ছড়ানো লাইসেন্সবিহীন অ্যাপ বা জামানতবিহীন অনলাইন ঋণ ও বিনিয়োগের প্রস্তাব গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপরিচিত এবং পিরামিড স্কিমে জড়িত ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।
কোনো প্রলোভনমূলক অফার যেমন লটারি বা পুরস্কারের প্রলোভন পেলে তা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করতে অনুরোধ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে অনলাইন প্রতারণার ফাঁদ থেকে নিজের অর্থ সুরক্ষিত রাখা যায় এবং অন্যদেরও সচেতন করা সম্ভব হয়।
ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা নিয়ে কোনো অভিযোগ বা হয়রানির ক্ষেত্রে ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


COMMENTS