
এনএনবি
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক আমদানি
শুল্ক বা ট্যারিফকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ
৬-৩ ভোটে এ রায় দেন।
রায়ে বলা হয়, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স
অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা তাঁর
সাংবিধানিক এখতিয়ারের বাইরে। আদালত উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী
কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের, প্রেসিডেন্টের নয়। শুল্ক আরোপের মতো
‘অসাধারণ ক্ষমতা’ প্রয়োগে কংগ্রেসের সুস্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন, যা প্রমাণ করতে
ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই রায় ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতিতে বড় ধাক্কা
হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে যে আইইইপিএ আইনে ‘নিয়ন্ত্রণ’ ও
‘আমদানি’ শব্দ থাকলেও তা প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন সময়ের জন্য যেকোনো দেশের ওপর
নির্বিচারে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না।
ট্রাম্প প্রশাসন আগামী ১০ বছরে ট্রিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যে এই শুল্কনীতি প্রণয়ন
করেছিল। তবে পেন-ওয়ার্টন বাজেট মডেলের অর্থনীতিবিদদের হিসাবে আইইইপিএ-এর আওতায়
আদায় হয়েছে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার। আদালতের রায়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারক ও
ব্যবসায়ীদের অর্থ ফেরতের প্রশ্নও সামনে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে চীন,
মেক্সিকো ও কানাডার বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ করেছিলেন। শুরুতেই ১২টি অঙ্গরাজ্য ও
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আদালতে এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে।
রায়ের পর প্রশাসনের বিকল্প পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী
স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সেকশন ২৩২ ও সেকশন ৩০১-এর মতো আইনি পথ বিবেচনায় রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব আইনের আওতায় আইইইপিএ-এর মতো বিস্তৃত ও তাৎক্ষণিক
প্রভাব ফেলা সম্ভব নয়।
রায়ের পর মার্কিন ডলারের মানে সামান্য পতন দেখা গেলেও শেয়ারবাজারে কিছুটা
স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে প্রশাসন নতুন আইনি উপায়ে শুল্ক আরোপের চেষ্টা করলে
বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।
COMMENTS