
এনএনবি
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর পর দেশে ‘ক্লোন’ ও
নকল মুঠোফোন ব্যবহারের ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মাত্র একটি আইএমইআই নম্বরেই
শনাক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি স্মার্টফোন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে
এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি
মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, বর্তমানে মোবাইল
নেটওয়ার্কে লাখ লাখ ভুয়া আইএমইআই নম্বর সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে
1111111111111, 0000000000000, 9999999999999-এর মতো একই ধরনের প্যাটার্নের
আইএমইআই। তবে এই মুহূর্তে এসব আইএমইআই ব্লক করা হচ্ছে না।
তিনি জানান, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিম্নমানের নকল ও ক্লোন ফোন ব্যবহার
করছেন, যেগুলোর কোনো রেডিয়েশন টেস্ট বা Specific Absorption Rate (SAR)
পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই হয়নি। চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কেই
এসব ডিভাইস সক্রিয় রয়েছে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়—এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে
না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ফোন বন্ধ না করে ‘গ্রে’ হিসেবে ট্যাগ করা
হবে।
গত এক দশকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু একটি আইএমইআই নম্বর 99999999999999
ব্যবহার করে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি ডিভাইস নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে।
ডকুমেন্ট আইডি, এমএসআইএসডিএন ও আইএমইআইয়ের বিভিন্ন সমন্বয়ে এ সংখ্যা পাওয়া
গেছে। স্মার্টফোনের পাশাপাশি এসব আইএমইআই আইওটি (IoT) ডিভাইসের ক্ষেত্রেও
ব্যবহৃত হতে পারে বলে জানান তিনি। অপারেটররা মোবাইল ফোন, সিম-সংযুক্ত ডিভাইস ও
আইওটি ডিভাইসের আইএমইআই আলাদা করতে না পারায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে বৈধভাবে
আমদানি করা আইওটি ডিভাইস আলাদাভাবে ট্যাগ করার কাজ শুরু হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ ডুপ্লিকেট আইএমইআইয়ের মধ্যে 440015202000 নম্বরে রয়েছে
প্রায় সাড়ে ১৯ লাখ ডিভাইস। এছাড়া 35227301738634 নম্বরে সাড়ে ১৭ লাখ,
35275101952326 নম্বরে সোয়া ১৫ লাখ এবং শুধু এক ডিজিটের শূন্য আইএমইআই নম্বরে
শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি ডিভাইস।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দেশে ক্লোন ও নকল ফোনের বিস্তার রয়েছে—এমন ধারণা থাকলেও
এর ভয়াবহতা যে এত গভীর, তা আগে অনুমান করা যায়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে
সংঘটিত ডিজিটাল জালিয়াতির ৭৩ শতাংশই ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইস ব্যবহার করে।
বিটিআরসি ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ তথ্য
অনুযায়ী, ২০২৩ সালে সংঘটিত e-KYC জালিয়াতির ৮৫ শতাংশে ব্যবহৃত হয়েছে অবৈধ বা
পুনঃপ্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেট। একই বছরে ১৮ লাখ মুঠোফোন চুরির অভিযোগ পাওয়া
গেলেও এর বড় অংশই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আন-অফিশিয়াল নতুন ফোনের নামে নকল ও ক্লোন ফোন বিক্রির
মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যে প্রতারণা করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। এই অবৈধ
চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
COMMENTS