
এনএনবি
ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর—যে শহরটি টানা আটবার দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে—সেখানেই পানীয় জলের মারাত্মক দূষণে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইন্দোরের ভাগীরথপুরা এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়া ও বমির তীব্র প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধী দল কংগ্রেসের দাবি, মৃতের সংখ্যা ১৪ পর্যন্ত হতে পারে। নিহতদের মধ্যে ছয় মাস বয়সী এক শিশুও রয়েছে।
শুক্রবার (০২ জানুয়ারি ২০২৬) ইন্দোরের মেয়র পুষ্যমিত্র ভার্গব ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভাগীরথপুরা এলাকায় একটি পুলিশ আউটপোস্টের শৌচাগার প্রধান পানির পাইপলাইনের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। পাইপলাইনে ছিদ্র থাকায় শৌচাগারের বর্জ্য পানির সঙ্গে মিশে যায়, যা দূষণের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইন্দোরের প্রধান চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সিএমএইচও) ড. মাধব প্রসাদ হাসানি জানান, ল্যাব পরীক্ষায় পানির নমুনায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কাউন্সিলর কমল বাঘেলা বলেন, গত ২৫ ডিসেম্বর থেকেই পানিতে দুর্গন্ধ ও রঙ পরিবর্তনের অভিযোগ উঠছিল। তবে সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত নয় দিনে ওই এলাকায় এক হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ অসুস্থ হয়েছেন। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২০১ জন চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ৩২ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৭০০ বাড়িতে গিয়ে ৮ হাজার ৫৭১ জনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক লক্ষণ পাওয়া গেছে ৩৩৮ জনের মধ্যে। আক্রান্ত এলাকায় ক্লোরিন ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং পানি ফুটিয়ে পান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ঘটনাটিকে ‘জরুরি পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করে গাফিলতির দায়ে ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের জোনাল অফিসার শালিগ্রাম শিতোলে, সহকারী প্রকৌশলী যোগেশ জোশী এবং উপপ্রকৌশলী শুভম শ্রীবাস্তবকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেন। তিনি নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা এবং অসুস্থদের বিনা মূল্যে চিকিৎসার আশ্বাস দেন।
এ ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) রাজ্য সরকারের কাছে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয় ঘটনাটিকে প্রশাসনিক ভুল হিসেবে স্বীকার করলেও বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী একে ‘সুশাসনের ঘাটতি’ বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ইন্দোরে পানির বদলে মানুষকে ‘বিষ’ সরবরাহ করা হয়েছে।
COMMENTS