
এনএনবি, ঢাকা
নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) চালু
করেছে টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯। একই সঙ্গে চালু করা হয়েছে জরুরি সতর্কতা
ব্যবস্থা ‘মুন অ্যালার্ট’ (মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন), যার মাধ্যমে সাধারণ
মানুষকে দ্রুত যুক্ত করে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৫) সকালে ঢাকায় সিআইডি সদর দপ্তরে অতিরিক্ত আইজিপি ও
সিআইডির প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে ১৩২১৯ নম্বরে
জানানো যাবে। পাশাপাশি ৯৯৯ এবং সিআইডির মিসিং চিলড্রেন সেলের নম্বরেও তথ্য
দেওয়া যাবে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই ও ঝুঁকি মূল্যায়নের পর প্রয়োজন হলে দ্রুত ‘মুন
অ্যালার্ট’ জারি করা হবে, যাতে সারা দেশের মানুষ সতর্ক হয়ে শিশুটিকে খুঁজে পেতে
সহায়তা করতে পারেন।
সিআইডি প্রধান জানান, মুন অ্যালার্ট ওয়েব পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ, সংবাদমাধ্যম,
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড, ব্যাংকের এটিএম বুথ এবং প্রয়োজনে
মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে প্রচার করা হবে। এতে সাধারণ জনগণ দ্রুত তথ্য দিয়ে
উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা
ও গোপনীয়তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো শিশুকে সীমান্তের বাইরে পাচারের আশঙ্কা দেখা দিলে
ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘ইয়েলো নোটিশ’ জারি করা হবে। আন্তর্জাতিকভাবে ‘অ্যাম্বার
অ্যালার্ট’ পরিচালনাকারী সংস্থা এনসিএমইসি এবং ফেসবুকের সহায়তায় সিআইডি ও জিরো
মিসিং প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়ে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৬ সালে শিশু অ্যাম্বার হ্যাগারম্যানের
অপহরণ ও হত্যার পর ‘অ্যাম্বার অ্যালার্ট’ চালু হয়, যা বর্তমানে ইউরোপসহ বহু
দেশে কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিখোঁজের পর প্রথম কয়েক
ঘণ্টার মধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করা গেলে শিশুকে নিরাপদে উদ্ধারের সম্ভাবনা
বহুগুণ বেড়ে যায়।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা আক্তার নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক
ঘটনার অভিজ্ঞতায় একটি দ্রুত, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় হয়ে
ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটেই সিআইডির নেতৃত্বে জিরো মিসিং চিলড্রেন প্ল্যাটফর্ম এবং
অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ টিমের সহায়তায় ‘মুন অ্যালার্ট’ চালু করা
হয়েছে।
মো. ছিবগাত উল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে নিখোঁজ শিশু
উদ্ধারে একটি শক্তিশালী, রাষ্ট্রনেতৃত্বাধীন ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামো গড়ে
উঠবে, যা শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
COMMENTS