
এনএনবি, ঢাকা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন জাতীয় জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোটে
‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়াই প্রকৃত সংস্কারের প্রতীক—এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক নির্বাচন
সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৫) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনের এ টি এম শামসুল হক
অডিটরিয়ামে ‘গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক
বিভাগীয় সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এই সংলাপের আয়োজন
করে।
বদিউল আলম বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের অধীনে যেসব সুদূরপ্রসারী সংস্কার প্রস্তাব
করা হয়েছে, সেগুলোর ওপর গণভোট হবে। জনগণ সেখানে জেনে–বুঝে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর
পক্ষে ভোট দেবে। ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংস্কার বাস্তবায়িত হবে, আর ‘না’ জয়ী হলে সেই
সংস্কার আর হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংস্কার ব্যর্থ হলে দেশ আবার আগের
অবস্থায় ফিরে যেতে পারে এবং নির্বাচিত সরকার স্বৈরাচারী হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই আন্দোলনের তিনটি
প্রধান লক্ষ্য ছিল—সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং বিচার।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর করা, নির্বাচনে অর্থের প্রভাব
ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের
প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তবে তিনি বলেন, শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই
গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত হয় না; এর জন্য জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত
কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন অপরিহার্য।
সুজনের সম্পাদক আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর
ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক
প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হবে। পাশাপাশি তিনি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠন, তরুণদের জন্য
মানসম্মত শিক্ষা, দারিদ্র্য হ্রাস, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার, অর্থনৈতিক ও
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার
চান।
সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন
বিএনপির নিলুফার চৌধুরী মনি, জামায়াতে ইসলামীর মো. হেলাল উদ্দিন, এনসিপির
সারোয়ার তুষার, গণফোরামের মিজানুর রহমান, গণ-অধিকার পরিষদের হাসান আল মামুন ও
ফারুক হাসান, এলডিপির নেয়ামূল বশির, বাসদ (মার্ক্সবাদী)-এর মাসুদ রানা, সিপিবির
রাগিব আহসান, নাগরিক ঐক্যের সাকিব আনোয়ারসহ অনেকে।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, অধ্যাপক রাশেদ আল
তিতুমীর, অধ্যাপক জসীম উদ্দিন খান, অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান,
কলামিস্ট ও সাংস্কৃতিক কর্মী সঞ্জীব দ্রং এবং গবেষক আব্দুল আজিজ।
COMMENTS