
জুলীয়াস চৌধুরী
ডেঙ্গুর মৌসুম এলেই ভারতের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক ও কেরালাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে দেশটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ‘কিউডেঙ্গা’র অনুমোদন।
ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) জাপানভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ বাজারজাত করার অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এটিই ভারতে অনুমোদিত প্রথম ডেঙ্গু টিকা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। গত দুই দশকে বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০০০ সালে যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েক লাখ সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এই রোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
টিকাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ, ডিইএনভি-১, ডিইএনভি-২, ডিইএনভি-৩ এবং ডিইএনভি-৪-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে একবার আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য সেরোটাইপে পুনরায় সংক্রমিত হলে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকুক বা না থাকুক, এই টিকা গ্রহণ করা যাবে। টিকা নেওয়ার আগে ডেঙ্গু হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য আলাদা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটিকে একটি বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের জাতীয় ভেক্টরবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির প্রায় সব অঙ্গরাজ্যেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশার বিস্তারের অনুকূল পরিবেশকে এ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বড় ফেজ-৩ গবেষণাটি পরিচালিত হয় ডেঙ্গুপ্রবণ আটটি দেশে। এতে ২০ হাজারের বেশি শিশু ও কিশোর অংশ নেন। দীর্ঘমেয়াদি অনুসরণে টিকাটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের ১২ মাস পর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। ডেঙ্গুজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে ১৮ মাস পর কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।
সাড়ে চার বছর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে কার্যকারিতা পাওয়া গেছে ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। সাত বছর পর্যন্ত অনুসরণে চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই দীর্ঘস্থায়ী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে টিকাটি নিরাপদ, সহনীয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম। ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই গবেষণাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় এই টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে। কিউডেঙ্গা সংস্থাটির প্রি-কোয়ালিফিকেশনও অর্জন করেছে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমানে ব্রাজিলের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে কিউডেঙ্গা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া ও কলম্বিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচিতেও টিকাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্বের প্রথম ডেঙ্গু টিকা ডেংভ্যাক্সিয়া কিছু দেশে ব্যবহৃত হলেও, সেটি গ্রহণের আগে ব্যক্তির পূর্ববর্তী সংক্রমণ শনাক্ত করার প্রয়োজন হতো। সে তুলনায় কিউডেঙ্গার ক্ষেত্রে এমন বাধ্যবাধকতা না থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে বাস্তবায়নের দিক থেকে অধিক কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা শহরেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ডেঙ্গুর বিস্তৃতি আগের তুলনায় আরও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা কোনো একক সমাধান নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টিকা একটি অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।
তাকেদা জানিয়েছে, ভারতে কিউডেঙ্গার সরবরাহ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
প্রতি বছর ডেঙ্গুতে প্রিয়জন হারানোর বেদনা যেসব পরিবারকে স্পর্শ করে, তাদের কাছে এই অনুমোদন নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে। এখন নজর থাকবে, কত দ্রুত টিকাটি সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছায় এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুহার কমাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: দ্য হিন্দু, তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
ডেঙ্গুর মৌসুম এলেই ভারতের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, কর্ণাটক ও কেরালাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে দেশটির জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা ‘কিউডেঙ্গা’র অনুমোদন।
ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) জাপানভিত্তিক বহুজাতিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালসের তৈরি ডেঙ্গু টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ বাজারজাত করার অনুমোদন দিয়েছে। কোম্পানির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এটিই ভারতে অনুমোদিত প্রথম ডেঙ্গু টিকা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। গত দুই দশকে বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০০০ সালে যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েক লাখ সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, সেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এই রোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
কারা নিতে পারবেন এই টিকা
তাকেদার তথ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা কিউডেঙ্গা গ্রহণ করতে পারবেন। এটি দুই ডোজের টিকা। দুটি ডোজের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধান রাখতে হবে।টিকাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ, ডিইএনভি-১, ডিইএনভি-২, ডিইএনভি-৩ এবং ডিইএনভি-৪-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে একবার আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য সেরোটাইপে পুনরায় সংক্রমিত হলে গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকুক বা না থাকুক, এই টিকা গ্রহণ করা যাবে। টিকা নেওয়ার আগে ডেঙ্গু হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণের জন্য আলাদা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এটিকে একটি বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অনুমোদন
ভারতে ডেঙ্গু এখন আর কেবল মৌসুমি রোগ নয়, বরং একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দুই দশকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাস্তবে সংক্রমণের হার সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি। কারণ অনেক রোগী পরীক্ষা করান না অথবা স্থানীয় পর্যায়ে শনাক্ত না হয়েই সুস্থ হয়ে যান।ভারতের জাতীয় ভেক্টরবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির প্রায় সব অঙ্গরাজ্যেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ণ, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশার বিস্তারের অনুকূল পরিবেশকে এ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
কীভাবে যাচাই করা হয়েছে কার্যকারিতা
কিউডেঙ্গার অনুমোদনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা। তাকেদার বৈশ্বিক গবেষণা কর্মসূচির আওতায় ফেজ-১, ফেজ-২ এবং ফেজ-৩ মিলিয়ে মোট ১৯টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালিত হয়েছে। এসব গবেষণায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন।সবচেয়ে বড় ফেজ-৩ গবেষণাটি পরিচালিত হয় ডেঙ্গুপ্রবণ আটটি দেশে। এতে ২০ হাজারের বেশি শিশু ও কিশোর অংশ নেন। দীর্ঘমেয়াদি অনুসরণে টিকাটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের ১২ মাস পর পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাটির কার্যকারিতা ছিল ৮০ দশমিক ২ শতাংশ। ডেঙ্গুজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে ১৮ মাস পর কার্যকারিতা ছিল ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ।
সাড়ে চার বছর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে কার্যকারিতা পাওয়া গেছে ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। সাত বছর পর্যন্ত অনুসরণে চারটি সেরোটাইপের বিরুদ্ধেই দীর্ঘস্থায়ী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
ভারতের নিজস্ব গবেষণার ফলও বিবেচনায়
আন্তর্জাতিক গবেষণার পাশাপাশি ভারতে পরিচালিত একটি পৃথক ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলও অনুমোদনের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ওই গবেষণায় ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী শিশু, কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে টিকাটি নিরাপদ, সহনীয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম। ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই গবেষণাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের কোথায় ব্যবহৃত হচ্ছে
তাকেদার তথ্য অনুযায়ী, কিউডেঙ্গা ইতোমধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার অন্তত ৪৩টি দেশে অনুমোদন পেয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি ডোজ বিতরণ করা হয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় এই টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে। কিউডেঙ্গা সংস্থাটির প্রি-কোয়ালিফিকেশনও অর্জন করেছে, যা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমানে ব্রাজিলের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে কিউডেঙ্গা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া ও কলম্বিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচিতেও টিকাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্বের প্রথম ডেঙ্গু টিকা ডেংভ্যাক্সিয়া কিছু দেশে ব্যবহৃত হলেও, সেটি গ্রহণের আগে ব্যক্তির পূর্ববর্তী সংক্রমণ শনাক্ত করার প্রয়োজন হতো। সে তুলনায় কিউডেঙ্গার ক্ষেত্রে এমন বাধ্যবাধকতা না থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে বাস্তবায়নের দিক থেকে অধিক কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
ভারতে ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ভৌগোলিক অবস্থান, জলবায়ু, জনসংখ্যার ঘনত্ব এবং নগরায়ণের ধরনে দুই দেশের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা শহরেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ডেঙ্গুর বিস্তৃতি আগের তুলনায় আরও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকা কোনো একক সমাধান নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টিকা একটি অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে।
তাকেদা জানিয়েছে, ভারতে কিউডেঙ্গার সরবরাহ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
প্রতি বছর ডেঙ্গুতে প্রিয়জন হারানোর বেদনা যেসব পরিবারকে স্পর্শ করে, তাদের কাছে এই অনুমোদন নতুন আশার বার্তা হয়ে এসেছে। এখন নজর থাকবে, কত দ্রুত টিকাটি সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছায় এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুহার কমাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: দ্য হিন্দু, তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
COMMENTS