
এনএনবি, ঢাকা
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বীর-উত্তম
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম
খন্দকার—যিনি এ কে খন্দকার নামে সুপরিচিত—ইন্তেকাল করেছেন। তিনি স্বাধীন
বাংলাদেশের প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান এবং সাবেক মন্ত্রী ছিলেন।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক
হাসপাতালে (সিএমএইচ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল
৯৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মুক্তিযুদ্ধে অপারেশন কিলোফ্লাইটের সদস্য ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার বীর প্রতীক এনএনবিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই
তিনি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ৭ ডিসেম্বর তাকে
সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।
রবিবার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) বাদ জোহর ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বাশারে
তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করে তাকে
সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
১৯৭১ সালের মার্চ মাসে এ কে খন্দকার গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে ঢাকা সেনানিবাসে
কর্মরত ছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পরপরই তিনি যুদ্ধে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। ওই বছরের
১৫ মে উইং কমান্ডার খাদেমুল বাশার ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রেজাসহ সপরিবারে
সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ত্রিপুরার আগরতলায় পৌঁছান তিনি। পরদিন মুক্তিবাহিনীর প্রধান
কর্নেল আতাউল গণি ওসমানী ও প্রবাসী সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এই বৈঠকের পর তাকে মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধে
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। আগস্টের শেষ দিকে
বিমান বাহিনী গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে অপারেশন কিলোফ্লাইটের সমন্বয়কের
দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়।
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর
প্রধান কর্নেল ওসমানীর অনুপস্থিতিতে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত
ছিলেন এ কে খন্দকার।
১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি রংপুর শহরে তার জন্ম। পৈত্রিক বাড়ি পাবনার বেড়া উপজেলায়।
১৯৪৯ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে যোগ দেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে
এয়ার ভাইস মার্শাল পদে উন্নীত হয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব
পালন করেন।
পরবর্তীতে তিনি ১৯৮৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯
সালে পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কূটনৈতিক পরিসরেও তার অবদান
উল্লেখযোগ্য—ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন
করেন এ কে খন্দকার।
COMMENTS