
এনএনবি ডেস্ক
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া
কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুইডেনে
নোবেল ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) তিনি এই অভিযোগ করেন। অ্যাসাঞ্জের দাবি, মাচাদোকে নোবেল দেওয়া নোবেল তহবিলের ‘চরম অপব্যবহার’ এবং সুইডিশ আইনের দৃষ্টিতে এটি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার শামিল।
অভিযোগপত্রে অ্যাসাঞ্জ বলেন, শান্তির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নোবেল পুরস্কারকে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কার্যত ‘যুদ্ধের হাতিয়ারে’ পরিণত করা হয়েছে। তিনি মাচাদোর জন্য নির্ধারিত পুরস্কারের অর্থ—১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা)—হস্তান্তর স্থগিতের আবেদন জানান। পাশাপাশি নোবেল ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট ৩০ জনের বিরুদ্ধে তহবিল অপব্যবহার ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
চলতি বছরের অক্টোবরে নোবেল কমিটি মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়। কমিটির মতে, ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরতন্ত্র থেকে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রচেষ্টার জন্য তিনি এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। তবে ঘোষণার পরপরই সিদ্ধান্তটি বিতর্ক সৃষ্টি করে। বিশেষ করে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতি মাচাদোর প্রকাশ্য সমর্থন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এ ছাড়া তিনি ক্ষমতায় গেলে ভেনেজুয়েলার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের অঙ্গীকার করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
অ্যাসাঞ্জের অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সামরিক চাপ প্রয়োগের নীতিকে মাচাদোর সমর্থন তাঁকে শান্তিতে নোবেল পাওয়ার যোগ্যতা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করে। তাঁর মতে, এ ধরনের নীতির ফলে প্রাণহানি ঘটছে এবং ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসনের ঝুঁকি বাড়ছে।
আলফ্রেড নোবেলের উইলের প্রসঙ্গ টেনে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ১৮৯৫ সালে নোবেল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন—শান্তিতে নোবেল পুরস্কার সেই ব্যক্তিকে দেওয়া হবে, যিনি মানবজাতির কল্যাণে সর্বাধিক অবদান রাখবেন এবং জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। উইকিলিকসও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, পুরস্কারের অর্থ মানবিক কাজে নয়, বরং যুদ্ধ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।
যদিও নরওয়ের অসলোতে একটি কমিটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে, তবু অ্যাসাঞ্জের যুক্তি—স্টকহোমভিত্তিক নোবেল ফাউন্ডেশনই এই পুরস্কারের আর্থিক দায় বহন করে এবং তাই আইনি জবাবদিহিতাও তাদেরই করতে হবে। সুইডিশ পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযোগটি গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
COMMENTS