
এনএনবি, ঢাকা
দেশে পাঁচটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের প্রাথমিক
অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এখন বাংলাদেশ
ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়া হবে। এরপরই
প্রক্রিয়া শেষে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে ব্যাংকগুলো।
বৃহস্পতিবার
(২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় গভর্নর মোস্তাকুর
রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
প্রাথমিক অনুমোদন
পাওয়া ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, যার উদ্যোক্তা
ভুটানের ডিকে ব্যাংক; বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, যার উদ্যোক্তা বিকাশের শেয়ারধারীরা;
নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, যার উদ্যোক্তা বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার
গ্রুপ; বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক, যার উদ্যোক্তা রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেড
এবং কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়েছে।
দেশের ব্যাংকিং খাতে যখন আস্থা ও সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই
জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই সময় আর্থিক ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হতে যাচ্ছে
ডিজিটাল ব্যাংক। দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে আলোচনা, নীতিমালা পরিবর্তন, আবেদন
গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও লাইসেন্স নিয়ে নানা জটিলতার পর অবশেষে এই অনুমোদন দেওয়া
হয়েছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার
জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদনপত্র নেয়। তখন ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। এসব
প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী,
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংস্থা, মোবাইল অপারেটর, মোবাইলে আর্থিক
সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়ন
প্রক্রিয়ায় ব্যাংকিং সক্ষমতা, উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা, মূলধন, প্রযুক্তিগত
অবকাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়েছে।
তার মধ্যে প্রাথমিকভাবে আটটি প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বিবেচনা করে চূড়ান্ত অনুমোদনের
জন্য উপস্থাপন করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ পাঁচটিকে প্রাথমিক
অনুমোদন দিয়েছে।
COMMENTS