![]() |
| ফিবি গেটস ও তার প্রযুক্তি উদ্যোগ ‘ফিয়া’ |
বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের কনিষ্ঠ কন্যা ফিবি গেটসের প্রযুক্তি উদ্যোগ ‘ফিয়া’কে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। অনলাইনে পণ্য কেনাকাটার সময় ক্রেতাকে তুলনামূলক কম দামে পণ্য খুঁজে দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অন্য অংশীদারের মাধ্যমে আসা বিক্রির কৃতিত্ব নিজেদের নামে নিয়ে কমিশন আদায়ের অভিযোগ ওঠার পর এবার ফিবি গেটসের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেজ সিক্সের ১৪ আগস্টের প্রতিবেদনে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ফিবি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানের উচ্চতর পর্যায়ের কোডিং কোর্স করেননি। তিনি মানব জীববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং এ বিভাগের স্নাতক পাঠ্যক্রমে কম্পিউটার বিজ্ঞানের কোর্স নির্দিষ্টভাবে বাধ্যতামূলক নয়।
তবে এই তথ্যের ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। স্ট্যানফোর্ডের মানব জীববিজ্ঞান কর্মসূচি আন্তঃবিষয়ভিত্তিক। এতে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন বিষয়ের কোর্স নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীর নির্বাচিত পাঠ্যক্রম ও একাডেমিক পরিকল্পনার ওপর কোর্সের সমন্বয় নির্ভর করে। ফলে ফিবি মানব জীববিজ্ঞানে পড়েছেন বলেই তাকে উন্নত কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে প্রশিক্ষিত হতে হয়েছে, এমনটি যেমন বলা যায় না, তেমনি উচ্চতর কোডিং কোর্স না করার তথ্য থেকেও তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
ফিবি ২০২৪ সালে স্ট্যানফোর্ড থেকে মানব জীববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিন বছরের মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করার সময় তার রুমমেট সোফিয়া কিয়ানির সঙ্গে ফিয়ার ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সেই উদ্যোগ অনলাইন কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী হিসেবে ব্যবসায়িক রূপ পায়।
ফিয়ার আর্থিক অবস্থান নিয়েও সঠিক তথ্য ব্যবহার জরুরি। প্রতিষ্ঠানটিকে বহু বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি হিসেবে বর্ণনা করার নির্ভরযোগ্য ভিত্তি প্রকাশ্য তথ্য থেকে পাওয়া যায় না। ফোরচুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত ফিয়া প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে এবং প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সর্বশেষ অর্থায়ন পর্বে মে মাসে প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহের কথা জানানো হয়।
কোডিং দক্ষতার প্রশ্ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ
স্ট্যানফোর্ডের কয়েকজন সহপাঠীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ফিবির প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এগুলো মূলত বেনামি সূত্রের বক্তব্য। পেজ সিক্সের প্রতিবেদনে একজন সহপাঠী দাবি করেছেন, ফিয়া তৈরির পরিকল্পনার কথা শুনে কম্পিউটার বিজ্ঞানের কয়েকজন শিক্ষার্থী বিস্মিত হয়েছিলেন। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসিও করেছিলেন বলে ওই সূত্রের দাবি।
কিন্তু এমন বক্তব্যকে ফিবি গেটসের প্রযুক্তিগত অযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা সাংবাদিকতাগতভাবে সমীচীন নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বা সহপ্রতিষ্ঠাতা নিজে কতটা কোড লিখতে পারেন, সেটি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। প্রযুক্তি খাতের অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা, পণ্য ব্যবস্থাপনা, বিপণন, গবেষণা বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে দক্ষতা নিয়ে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং প্রকৌশলীদের নেতৃত্বে প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছেন।
ফিয়ার ক্ষেত্রেও তাই মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত শুধু ফিবি নিজে কতটা কোডিং জানেন তা নয়। বরং তিনি ও তার সহপ্রতিষ্ঠান কীভাবে প্রযুক্তিগত পণ্য তৈরি, পরিচালনা, পরীক্ষা ও তদারকি করেছেন, সেই প্রশ্নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কমিশন আদায়ের পদ্ধতিই বড় বিতর্ক
ফিয়াকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু আসলে এর ব্যবসায়িক মডেল এবং অংশীদারি বিক্রির কমিশন ব্যবস্থা।
ব্লুমবার্গের জুলাই মাসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ফিয়ার ব্রাউজার সংযোজনী কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর প্রত্যক্ষ পদক্ষেপ ছাড়াই পটভূমিতে একটি পৃথক পৃষ্ঠা খুলে নিজেদের অংশীদারি সংযোগ সক্রিয় করত। এর ফলে কোনো ক্রেতা আগে অন্য প্রকাশক বা অংশীদারের মাধ্যমে কোনো পণ্যের বিক্রয়-সংযোগে পৌঁছে থাকলেও শেষ পর্যন্ত কমিশনের কৃতিত্ব ফিয়ার কাছে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
অংশীদারি বিপণনের ক্ষেত্রে অন্য কোনো প্রকাশক বা অংশীদারের তৈরি বিক্রয়-সংযোগের কৃতিত্ব প্রযুক্তিগতভাবে দখল করে নেওয়ার কৌশলকে সাধারণভাবে ‘কুকি স্টাফিং’ বলা হয়। তবে ফিয়ার ক্ষেত্রে এই অভিযোগের প্রকৃতি, ব্যাপ্তি ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি পৃথকভাবে প্রযুক্তিগত ও আইনগত পর্যালোচনার দাবি রাখে।
স্বাধীন প্রযুক্তি গবেষক ও অংশীদারি বিপণন বিশেষজ্ঞ বেন এডেলম্যানও ফিয়ার আচরণ পরীক্ষা করেছেন। তার প্রকাশিত বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ফিয়ার আইফোনভিত্তিক সংস্করণে এমন একটি বৈশিষ্ট্য ছিল, যা ব্যবহারকারীর সরাসরি ক্লিক ছাড়াই অংশীদারি সংযোগ সক্রিয় করতে সক্ষম ছিল। এডেলম্যানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশিষ্ট্যটি ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি সংস্করণে যুক্ত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও এর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তবে এডেলম্যানের ফলাফল তার নিজস্ব পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও কোড পর্যালোচনার ভিত্তিতে তৈরি। এটিকে আদালতের রায় বা কোনো সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
ফিয়ার ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন
প্রথম অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ফিয়া জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক একটি সফটওয়্যার সংস্করণের কারণে সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে বিক্রির কৃতিত্ব ভুলভাবে নির্ধারিত হচ্ছিল। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর ওই বৈশিষ্ট্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তী পরীক্ষায়ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য অংশীদারের বিক্রির কৃতিত্ব নেওয়ার ওই আচরণ আর দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আগস্টে প্রকাশিত পরবর্তী প্রতিবেদনে বিতর্কটি আরও গভীর হয়। ব্লুমবার্গের অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে পিপল জানিয়েছে, ফিয়ার অভ্যন্তরীণ স্ল্যাক বার্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে এ ধরনের প্রযুক্তিগত আচরণ নিয়ে ডিসেম্বর থেকেই আলোচনা চলছিল।
এই তথ্য সত্য হলে বিষয়টি কেবল একটি সাম্প্রতিক সফটওয়্যার ত্রুটি ছিল কি না, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে কোনো প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা থাকা এবং কোনো প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তিগতভাবে প্রতারণার নির্দেশ দিয়েছেন বা অপরাধে যুক্ত ছিলেন, এই দুই বিষয় এক নয়। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জ্ঞান, উদ্দেশ্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা প্রমাণের জন্য আরও নির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন।
এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে ফিবি গেটস বা সোফিয়া কিয়ানির বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
আয় ও বিনিয়োগ নিয়েও অনিশ্চয়তা
ফিয়ার ব্যবসায়িক মডেলে অংশীদারি বিক্রির কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে বিক্রির কৃতিত্ব ভুলভাবে নির্ধারিত হলে তার আর্থিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিতর্কিত বৈশিষ্ট্য বন্ধ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের আয় কমে যাওয়ার দাবি বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
তবে দৈনিক বা মাসিক আয়ের পরিমাণ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা পাওয়া যায়। তাই নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ককে প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত আয় বা ক্ষতির হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা এখনই যথাযথ হবে না।
অন্যদিকে ফিয়া বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ও পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে। পিপলের প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের মোট তহবিল প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ ডলারে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। কোম্পানি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে লেনদেন পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ভুলভাবে নির্ধারিত কমিশন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে একজন প্রধান সম্মতি কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
আইনি ঝুঁকি মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়
ফিয়ার কর্মকাণ্ড নিয়ে আইনগত প্রশ্নও উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনের ১৮ নম্বর শিরোনামের ১৩৪৩ ধারায় তার বা ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবহার করে প্রতারণার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
কিন্তু কোনো প্রযুক্তিগত আচরণকে ‘ওয়্যার ফ্রড’ বা তারের মাধ্যমে প্রতারণার অপরাধ হিসেবে গণ্য করার জন্য শুধু ভুলভাবে কমিশন পাওয়ার ঘটনা যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জ্ঞাতসারে প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য উপাদান প্রমাণের বিষয় থাকে।
তাই ফিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে বলেই ফিবি গেটস বা সোফিয়া কিয়ানির ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, এমন বক্তব্য আইনগতভাবে অকাল ও অতিরঞ্জিত হবে। অভিযোগ, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ব্যবসায়িক অনিয়ম এবং ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রাখা জরুরি।
গেটস পরিবারের পরিচয়ও বিতর্কের অংশ
ফিবি গেটসের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো তার পারিবারিক পরিচিতি। তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী ও প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটসের কন্যা। ফলে তার যেকোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ সাধারণ উদ্যোক্তার তুলনায় বেশি জনমনোযোগ পায়।
ফোরচুনের প্রতিবেদনে ফিবি বলেছেন, নিজের উদ্যোগকে পরিবারের নাম ও প্রভাবের বাইরে দাঁড় করানোর ব্যাপারে তিনি আগ্রহী। ফিয়ার জন্য তার বাবা-মা বিনিয়োগ করেননি বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এই অবস্থায় ফিয়াকে ঘিরে বিতর্কের একটি দিক পারিবারিক পরিচিতির প্রভাব নিয়ে। একজন সাধারণ তরুণ উদ্যোক্তার প্রযুক্তিগত শিক্ষা, বিনিয়োগ সংগ্রহ বা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিয়ে যে প্রশ্ন হয়, বিল গেটসের কন্যার ক্ষেত্রে সেই প্রশ্নের সঙ্গে জনআগ্রহ ও সন্দেহের মাত্রাও স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।
আসল প্রশ্ন প্রযুক্তি ব্যবসার জবাবদিহি
ফিবি গেটস উন্নত কোডিং কোর্স করেছেন কি না, সেটি নিঃসন্দেহে তার প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বোঝার ক্ষেত্রে একটি তথ্য। কিন্তু ফিয়ার বর্তমান বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্ভবত এটি নয়।
বড় প্রশ্ন হলো, একটি দ্রুত বেড়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি কীভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল, অংশীদারি কমিশন কীভাবে নির্ধারিত হয়েছিল এবং সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত বা ভুল কৃতিত্ব শনাক্ত করার জন্য প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল।
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে কখন জানা গিয়েছিল এবং সেটি জানার পর কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে বোঝা সহজ হবে, ঘটনাটি একটি সফটওয়্যার ত্রুটি, দুর্বল অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, নাকি আরও গুরুতর ব্যবসায়িক অনিয়মের ফল ছিল।
ফিয়ার পক্ষ বলছে, সমস্যাজনক বৈশিষ্ট্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে, লেনদেন পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ভুলভাবে নির্ধারিত কমিশন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্বাধীন প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক ব্যাখ্যার সময়কাল ও অভ্যন্তরীণ জ্ঞানের মাত্রা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
এই প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত উত্তর নির্ভর করবে আরও নথি, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা, অংশীদারি নেটওয়ার্কের হিসাব পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনে আইনগত তদন্তের ওপর।
সুতরাং ফিবি গেটসের কাহিনিকে শুধু ‘বিল গেটসের মেয়ে কোডিং জানেন না’ ধরনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ করলে ঘটনাটির মূল বিষয় আড়ালে পড়ে যাবে। ফিয়ার সামনে এখন বড় পরীক্ষা হলো প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা, অংশীদারি কমিশন ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি কতটা নিশ্চিত করা যায়। একজন উদ্যোক্তার একাডেমিক পটভূমি নয়, শেষ পর্যন্ত তার প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক আচরণের স্বচ্ছতাই আস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠবে।

COMMENTS