
এনএনবি, ঢাকা
অবৈধ আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন (ভিওআইপি)
কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৮ হাজার ৬৮২টি সিম শনাক্ত হওয়ায় দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের
বিরুদ্ধে ৮ কোটি ৬৮ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা করেছে বাংলাদেশ
টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬)
বিটিআরসি রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক, টেলিটক ও গ্রামীণফোনকে পৃথক নোটিশ পাঠিয়ে এ
সিদ্ধান্ত জানায়। বিটিআরসির উপপরিচালক শারমিন সুলতানা স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা
হয়েছে, অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহৃত প্রতিটি সিমের জন্য ১০ হাজার টাকা করে
জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।
চার অপারেটরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জরিমানার
মুখে পড়েছে রবি আজিয়াটা। প্রতিষ্ঠানটির ৫ হাজার ৯৩৫টি সিম অবৈধ ভিওআইপি
কার্যক্রমে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ৫ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা
হয়েছে। বাংলালিংকের ১ হাজার ৮৮২টি সিমের জন্য জরিমানা করা হয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ ২০
হাজার টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের ৬৮১টি সিম শনাক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৬৮ লাখ
১০ হাজার টাকা এবং গ্রামীণফোনের ১৮৪টি সিমের জন্য ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
করা হয়েছে।
বিটিআরসির নোটিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অপারেটরগুলো
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, মোবাইল অপারেটর লাইসেন্সের শর্ত এবং কমিশনের
বিভিন্ন নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন প্রতিরোধে কার্যকর
ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে তাদের নিবন্ধিত সিম অবৈধ ভিওআইপি
কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে।
বিটিআরসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার
শর্তে জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে অবৈধ ভিওআইপি
কার্যক্রমে ব্যবহৃত কয়েক হাজার সিম শনাক্ত করা হয়। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন
মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও
তিনি জানান।
নোটিশে অপারেটরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার
১০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ বিটিআরসিতে জমা দিয়ে পরিশোধের প্রমাণপত্র দাখিল
করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ এবং সংশ্লিষ্ট বিধান
অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গ্রামীণফোনের হেড অব
কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সবসময় আইন ও বিটিআরসির
নির্দেশনা মেনে পরিচালিত হয়। বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের মাধ্যমে গ্রাহকের পরিচয়
নিশ্চিত করা হলেও কোনো নিবন্ধিত গ্রাহক সংযোগের অপব্যবহার করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তির ওপর বর্তায়। এ বিষয়ে বিটিআরসির সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে বলেও তিনি
জানান।
অন্যদিকে রবি আজিয়াটার চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার
ব্যারিস্টার সাহেদ আলম দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি এখনও বিটিআরসির কোনো আনুষ্ঠানিক
নোটিশ হাতে পায়নি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সিমের সংখ্যা প্রকৃত তথ্যের প্রতিফলন নয়
বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, উল্লেখিত সিমের ৯৫ শতাংশের বেশি আগেই
নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন (বারড) করা হয়েছিল। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে
কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা বিটিআরসির নিজস্ব বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ
হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে জড়িত
থাকার অভিযোগে বিভিন্ন সময় মোবাইল অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে
বিটিআরসি। কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে নজরদারি ও অভিযান
ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
COMMENTS