
এনএনবি, ঢাকা
দেশে পরিচালিত অবৈধ অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি ১১৬টি জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে তালিকা পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে চারটি জুয়ার সাইট পরিচালনার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে ২০২৬) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট নিয়মিত অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে নজরদারি চালিয়ে আসছে। ১ মে থেকে পরিচালিত সাইবার প্যাট্রলিংয়ের মাধ্যমে ১১৬টি জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়। এসব সাইট বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেনের অভিযোগে ৮৭৯টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ৪৩টি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে অনুরোধ জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, প্রথম দফায় ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নরসিংদীর পলাশ ও ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জের আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী, আশরাফুল ইসলাম, ময়মনসিংহের জসীম উদ্দীন, নরসিংদীর তৈয়ব খান ও সৌমিক সাহা, লক্ষ্মীপুরের কামরুজ্জামান এবং কিশোরগঞ্জের আব্দুর রহমান। তাঁদের মধ্যে দুজন একটি মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবেও কাজ করতেন।
সিআইডির দাবি, অভিযুক্তরা চারটি অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনা করতেন এবং প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হতো। এই অর্থের বড় অংশ হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জুয়ার কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা করা হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও জানান সিআইডিপ্রধান।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে সিআইডি ‘এমটিএফই’ নামের একটি পঞ্জি স্কিমের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।
COMMENTS