
এনএনবি, পাবনা
জ্যৈষ্ঠ মাস শুরু হতে এখনো কয়েকদিন বাকি থাকলেও পাবনার বিভিন্ন হাট-বাজারে আগেভাগেই উঠতে শুরু করেছে লিচু। তবে বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ লিচুই এখনো অপরিপক্ব। দ্রুত বেশি লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও বাগান মালিক কাঁচা লিচু সংগ্রহ করে বাজারজাত করায় প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সরেজমিনে ঈশ্বরদীর জয়নগর ও সাহাপুর লিচুর হাটসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, থোকায় থোকায় লিচু সাজিয়ে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু অধিকাংশ লিচুই আকারে ছোট এবং পুরোপুরি লাল হয়নি। বাজারে মূলত দেশি জাতের লিচু বিক্রি হচ্ছে, যেগুলোর স্বাদ টক এবং আঁটি তুলনামূলক বড়।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সাধারণত মে মাসের শেষ ভাগ বা জুনের শুরুতে লিচু পরিপক্ব হয়। কিন্তু কিছু ব্যবসায়ী আগাম মুনাফার আশায় অপরিপক্ব লিচুতে কৃত্রিম রং ও বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করে তা বাজারে ছাড়ছেন।
পরিপক্ব লিচুর সরবরাহ কম থাকায় কাঁচা লিচুই এখন উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে প্রতি ১০০ দেশি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাহ্যিকভাবে আকর্ষণীয় দেখালেও এসব লিচুর ভেতরে পর্যাপ্ত শাঁস থাকে না এবং স্বাদও অত্যন্ত টক। শহরের এক ক্রেতা জানান, সন্তানদের আবদারে ৪০০ টাকা দিয়ে ১০০ লিচু কিনলেও খাওয়ার পর হতাশ হতে হয়েছে। বাজারে তদারকির অভাবেই এমন প্রতারণা বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের আগে লিচু পাকাতে অনেক সময় ‘ইথ্রেল’সহ বিভিন্ন হরমোন জাতীয় রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এসব রাসায়নিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে লিচু সংগ্রহ না করতে বাগান মালিকদের নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে। অপরিপক্ব লিচুতে রং মিশিয়ে বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাবনার জনপ্রিয় বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু বাজারে আসতে আরও প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। এ কারণে ক্রেতাদের সচেতনভাবে ফল কেনা এবং কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
COMMENTS