
এনএনবি
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার
সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শেষ মুহূর্ত
পর্যন্ত বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চালিয়েছে,
বাস্তবতা বলছে—সে সম্ভাবনা কার্যত নেই।
আইসিসির যেকোনো বৈশ্বিক আসর ক্রিকেটারদের জন্য যেমন বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের
সুযোগ তৈরি করে, তেমনি সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ রাজস্বের
উৎস। বিশ্বকাপে অংশ নিলে প্রাইজমানি, বাণিজ্যিক আয় এবং বিভিন্ন
পারফরম্যান্সভিত্তিক বোনাস থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ আসে। সে কারণে এবারের
বিশ্বকাপে না খেললে আর্থিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়বে বিসিবি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৫) যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। পরিস্থিতি
বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে—এমন ধারণা কিছুদিন ধরেই ছিল। একই সঙ্গে শুরু
হয়েছিল বিশ্বকাপে অনুপস্থিত থাকলে বিসিবির সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির হিসাব।
বর্তমানে বিসিবির গড় বার্ষিক আয় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। আইসিসির ২০২৪–২০২৭ চক্রে
বার্ষিক মোট আয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার। টেস্ট খেলুড়ে পূর্ণ সদস্য দেশ
হিসেবে আইসিসির কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে বিসিবি প্রতি বছর প্রায় ২৬.৭৪ মিলিয়ন
ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৮০–২৯০ কোটি টাকা পেয়ে থাকে। এই আয় বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের
সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়।
তবে বিশ্বকাপে খেলার ফলে প্রাইজমানি ও ইভেন্টভিত্তিক রাজস্ব ভাগ থেকে যে অর্থ
আসে, তা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হতে পারে প্রায় ৫০ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিসিবি ও
সরকারের অবস্থান হলো—কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির চেয়েও নিরাপত্তা এবং দেশের
মর্যাদা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর বিসিবি ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের
বিষয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয়। পরে একাধিক দফা আলোচনা হলেও অবস্থান পরিবর্তন হয়নি।
গত ২১ জানুয়ারি বোর্ড সভা শেষে আইসিসি বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়
সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য। শেষ পর্যন্ত সরকারের পরামর্শে ভারতে দল না পাঠানোর
সিদ্ধান্তেই অনড় থাকে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড।
এর ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে না থাকায় বাংলাদেশের ক্রিকেট যেমন প্রতিযোগিতামূলক
সুযোগ হারাবে, তেমনি আর্থিক দিক থেকেও বিসিবিকে বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
COMMENTS