
এনএনবি ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংক সঞ্চয়পত্র, প্রাইজবন্ডসহ সাধারণ মানুষের জন্য চালু থাকা পাঁচটি
সরকারি রিটেইল সেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার, ভবনের
আধুনিকায়ন এবং উন্নত ভল্ট সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, ৩০ নভেম্বর থেকে
এসব সেবা আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল কার্যালয় বা অন্যান্য শাখায় পাওয়া যাবে
না। অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং জনগণকে অবহিত করতে শিগগিরই
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
বর্তমানে ২৮টি কাউন্টার থেকে যেসব ১০ ধরনের সেবা দেওয়া হয়, তার মধ্যে সঞ্চয়পত্র
বিনিময়, প্রাইজবন্ড বিক্রি, ত্রুটিযুক্ত নোট বদল, পিএডি লেনদেন এবং চালানের
ভাংতি—এই পাঁচটি সেবা বন্ধ হচ্ছে। এসব কাজে ব্যবহৃত ১২টি কাউন্টারও কার্যক্রম
বন্ধ রাখবে। তবে দাপ্তরিক প্রয়োজনে একটি অভ্যন্তরীণ কাউন্টার চালু থাকবে।
গত কয়েক মাসের ধারাবাহিক সভা, নিরাপত্তা মূল্যায়ন, এবং সেপ্টেম্বরে জমা দেওয়া
কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ
থাকে, কেপিআই শ্রেণিভুক্ত মূল ভবনে সাধারণ মানুষের অতিরিক্ত উপস্থিতি
নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতে রিজার্ভ হ্যাকিং, জালিয়াতি, ভিডিও ধারণসহ
বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন আরও জানায়, দেশের ৬০টির বেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সহজেই
সঞ্চয়পত্র ও প্রাইজবন্ড বিক্রির সেবা দেওয়া সম্ভব, এবং বিশ্বের কোথাও কেন্দ্রীয়
ব্যাংক সরাসরি জনগণকে এমন রিটেইল সেবা প্রদান করে না।
যদিও নতুন সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ হবে, ইতোমধ্যে ইস্যুকৃত সঞ্চয়পত্রের
মেয়াদপূর্তির আগ পর্যন্ত সব সুবিধা আগের মতোই পাওয়া যাবে। তবে মেয়াদ শেষে
সেগুলো পুনঃবিনিয়োগ করা যাবে না। হিসাব পরিবর্তন, নমিনি সংযোজন-বদল, আগাম
নগদায়ন ও অন্যান্য আইনগত কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
COMMENTS