
এনএনবি, ময়মনসিংহ
নিহত দীপু চন্দ্র দাসের স্ত্রী, সন্তান ও বাবা–মায়ের দেখভালের দায়িত্ব রাষ্ট্র
গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি বলেন,
পরিবারের প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ করে তা পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার
মোকামিয়াকান্দা গ্রামে দীপু চন্দ্র দাসের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে
সাক্ষাৎ করেন শিক্ষা উপদেষ্টা। এ সময় তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে
আলোচনার পর পরিবারটির সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবারটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে।
দীপু দাসের বাবা রবি চন্দ্র দাস এ সময় পরিবারের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে
হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, 'বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের
মানুষ পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। মত বা
বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। বাংলাদেশ একটি
আইনশাসিত রাষ্ট্র, যেখানে অভিযোগ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের একমাত্র কর্তৃত্ব
রাষ্ট্রের।'
তিনি আরও বলেন, 'দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস ও অমানবিক অপরাধ, যার
কোনো যুক্তি বা অজুহাত নেই। সরকার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১২
জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন তার পূর্ণ
শক্তি প্রয়োগ করবে।'
সি আর আবরার বলেন, 'ধর্ম বা পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা
রক্ষায় রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সমাজকে
একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে সহিংসতা কোনোভাবেই জায়গা না পায়। কিছু অপশক্তি
বিভাজন ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইছে—এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।'
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান, অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন, তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার
হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার
নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা
হয়। পরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে মরদেহ ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে
দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০
জনকে আসামি করে মামলা করেন।
এদিকে নিহতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে শ্রীশ্রী
জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ। মঙ্গলবার দুপুরে সংগঠনের নেতারা নিহতের বাড়িতে গিয়ে
সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে বলেন, 'ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সহিংসতা ও
হয়রানির ঘটনা নতুন নয়। বিচারহীনতার কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তিনি
দ্রুত গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার সম্পন্নের দাবি
জানান।'
এ ছাড়া দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের
দাবিতে ময়মনসিংহ নগরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সমাজ রূপান্তর
সাংস্কৃতিক সংঘ। বক্তারা অবিলম্বে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
COMMENTS