![]() |
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পদক্ষেপের দাবিতে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে বিক্ষোভ |
বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে জোর প্রচেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উন্নত অর্থনীতি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তবে বৈশ্বিক ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে একটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী। একটি সমীক্ষার ভিত্তিতে গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখতে হলে বড় ব্যাংকগুলোর জলবায়ু প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করতে হবে।
এপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার ২৭টি জায়ান্ট ব্যাংকের জলবায়ু প্রচেষ্টা প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। চুক্তি অনুসারে, বিশ্বনেতারা বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো বড় ব্যাংক নতুন জ্বালানি তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে অর্থায়ন বন্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়নি। কেবল ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির নির্দেশিকা অনুসারে কয়লায় অর্থায়ন কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন কমাতে কাজ করা ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর গ্রুপ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইআইজিসিসি) এ মূল্যায়ন প্রস্তুত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৩৫০টিরও বেশি সদস্য প্রধানত সম্পদ ব্যবস্থাপক ও মালিক। এর মধ্যে রয়েছে বার্কলেস ব্যাংক ইউকে রিটায়ারমেন্ট ফান্ড, ব্ল্যাকরক ও গোল্ডম্যান স্যাকস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল। আইআইজিসিসির ওয়েবসাইট অনুসারে, গ্রুপ সদস্যদের ব্যবস্থাপনা ও পরামর্শক ব্যবসার অধীনে ৫১ লাখ কোটি ইউরো (৫২ লাখ কোটি ডলার) সম্পদ রয়েছে। এটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সম্পদের প্রায় এক-দশমাংশ।
করপোরেট কার্বন নিঃসরণ ট্র্যাক করা গবেষণা গ্রুপ দ্য ট্রানজিশন পাথওয়ে ইনিশিয়েটিভ প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছে। মূল্যায়নটি তাত্পর্যপূর্ণ, কারণ এটি আর্থিক সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেই এসেছে। এটি এ ধারণার প্রতিধ্বনি যে, কার্বন নিঃসরণ কমাতে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। ওয়ার্টন বিজনেস স্কুলের পরিবেশগত, সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের ভাইস ডিন উইটোল্ড হেনিজ বলেন, গবেষণায় উঠে এসেছে এখনো নিট জিরোর দিকে ব্যাংকগুলোর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এমনকি নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণেও তাদের মধ্যে তাগাদা নেই। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকগুলোকে জলবায়ু পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।
গবেষণাটিতে ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন ক্ষেত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে। নিট জিরো অঙ্গীকারে দৃঢ়তা, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা, ডিকার্বনাইজেশন কৌশল, দূষণকারী শিল্প থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা, জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে লবিং, অ্যাকাউন্ট ও অডিটে জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে। গবেষকরা প্রতিটি বিভাগের জন্য বেঞ্চমার্ক সেট করেছিল।
বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সারাসিস অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রধান বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক এবং আইআইজিসিসি ওয়ার্কিং গ্রুপের কো-চেয়ার ল্যান্ডেল-মিলস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উদ্যোগ অবশ্যই আরো বাড়াতে হবে। ব্যাংকগুলোকে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।
সমীক্ষাটিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থের গেটকিপার হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ব্যাংকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধের মাধ্যমে নিঃসরণ কমাতে বড় অবদান রাখতে পারে।
তবে দুই-তৃতীয়াংশ ব্যাংক নিট জিরো কার্বন নিঃসরণ অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। তবে এ প্রতিশ্রুতিও বিস্তৃতভাবে পরিবর্তিত হয়। কেবল ইউবিএস ব্যবসাজুড়ে নিট জিরো অর্জনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চারটি চীনা ব্যাংক এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না, ব্যাংক অব চায়না, চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না নিট জিরো নিঃসরণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল সবচেয়ে খারাপ রেটেড। তবে এপির মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি ব্যাংকগুলো।
COMMENTS