
এনএনবি, পাবনা
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি, সয়াবিন তেল ও রাসায়নিকের মিশিয়ে তৈরি
হচ্ছে ‘বিষাক্ত দুধ’। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে একের পর এক ব্যবসায়ী ধরা পড়লেও,
এই অপরাধ থামছে না।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) মধ্যরাতে উপজেলার শিংগাড়ি জগন্নাথপুর গ্রামে অভিযান
চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় নকল দুধ তৈরির অপরাধে ফারুক হোসেন (৪০) নামে এক
ব্যবসায়ীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে
২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর একই অপরাধে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা
হয়েছিল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক নানা ক্ষতিকর রাসায়নিক
মিশিয়ে কৃত্রিম দুধ তৈরি করে আসছিলেন। এর আগেও তাকে জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু
তিনি পুনরায় কারখানা খুলে এই বিষাক্ত দুধ তৈরির কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযানে
নকল দুধ তৈরির নিষিদ্ধ সরঞ্জাম পাওয়া যায়। এ সময় কারখানা থেকে ২০০ লিটার ক্ষতিকর
গ্লুকোজ জেলি জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, ‘আইন অনুযায়ী
অভিযুক্তকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং নিরাপদ খাদ্য
নিশ্চিতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।’
ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধের কারবার শুধু ফারুক হোসেনেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ,
চরভাঙ্গুড়া গ্রাম ও কৈডাঙ্গা গ্রামের দুজনকে একাধিকবার জেল-জরিমানা করার পরও এখনো
তারা নকল দুধ উৎপাদন ও সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অসৎ চক্রটি উপজেলার বিভিন্ন
পয়েন্টে অবস্থিত চিলিং সেন্টারের আড়ালে রাতভর এই অপরাধগুলো চালিয়ে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই নকল দুধ কারবারিদের একটি সমিতি আছে, সেই সমিতির
আড়ালে নকল দুধ উৎপাদন ও সরবরাহ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভাঙ্গুড়া বাজারের দুগ্ধ খামারি আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত খামারিরা সকালে ও
সন্ধ্যায় দুধ সরবরাহ করেন। কিন্তু এখন বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে সারা রাত ধরে বিপুল
পরিমাণ দুধ আসছে, যা অত্যন্ত সন্দেহজনক। এসব সেন্টারে কঠোর নজরদারি না বাড়ালে নকল
দুধের সরবরাহ রোধ করা সম্ভব হবে না।
COMMENTS